1. admin@bdtimes24.live : admin :
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা চাইলেন জামায়াত আমির সাইবার বুলিং ও অপতথ্য রুখতে তারেক রহমান সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ স্বপ্নের ফ্ল্যাটের প্রত্যয়ে স্বপ্ন শহর প্রোপার্টিজের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কানাডায় জমজমাট প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির অ্যালামনাই গেট-টুগেদার স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সিকিউরিটিজের ৫৪তম বোর্ড বৈঠক অনুষ্ঠিত জনতা ব্যাংকের এএলএম কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সাইবার আক্রমণ ঠেকানোর প্রশিক্ষণে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে বুটক্যাম্প সোনার বাংলা গড়ার নামে পরিবেশ বিপর্যয়: সাভারের কামালপুরে বন ও কৃষিজমি গিলে খাচ্ছে তথাকথিত রিসোর্ট বিএনপির ট্যাগ নিয়ে রুমিন ফারহানার ফেসবুক পোস্টে নতুন বার্তা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত: ডেপুটি স্পিকার

নওগাঁয় পরীক্ষার আগেই টাকা নেওয়ার অভিযোগ- নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত

সাহেব আলী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশে সময় : বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৪
  • ১৬৩ বার পঠিত
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সাগরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে  মাধ্যমিক শূণ্য পদে ৫জন ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী নিয়োগের পাঁয়তারা করেছিল সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক। দপ্তরে অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। শেষ হয়ে যায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার মেয়াদ। এতে মুখ থুবরে পড়ে ওই সকল চাকরি প্রত্যাশীর চাকরি করার স্বপ্ন।  অভিযোগ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা করেছিলেন বিদ্যলয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও মিঠাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ হোসেন। প্রধান শিক্ষক এনামুল হকের বিরুদ্ধেও আছে টাকা নেওয়ার অভিযোগ। তারা নিয়োগ পরীক্ষার আগেই প্রায় ৭০ লাখ টাকা ও স্কুলের নামে ১০ শতক জমি লিখে নিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিদ্যালয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাগরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শূন্য পদে একজন করে নিরাপত্তাকর্মী, আয়া, নৈশ্যপ্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের জন্য গত বছর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। সেই মোতাবেক ৫টি পদের নিয়োগ গত ৩১ ডিসেম্বর চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল। কিন্তু ওই নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার আগেই বিদ্যালয়ের সভাপতি এবং প্রধান শিক্ষক যোগসাজস করে চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করছিলো। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং যেকোনো সময় আইন শৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন। এঘটনায় বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সঞ্জয় সরকার, খয়বুল ও মাহবুব মোরশেদ গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত চেয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। এবং অনুলিপি বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করেন কর্তৃপক্ষ। এরফলে যেসকল চাকরি প্রত্যাশীরা নিয়োগ পাওয়ার আশায় টাকা দিয়েছেন, তারা রয়েছেন বিপদে। তবে এখনও চাকরি পাওয়ার আশায় তারা মুখ খুলতে রাজি না।
ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্য অভিযোগ করে বলেন, গোপনে আগে থেকে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক ৪র্থ শ্রেণীর ৫টি পদে ৭জন চাকরি প্রত্যাশীর কাছ থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকা নিয়েছেন। এছাড়া আয়া পদের জন্য এক চাকরি প্রত্যাশীর কাছ থেকে স্কুলের নামে ১০ শতক জমি লিখে নিয়েছে, পাশাপাশি নগদ টাকাও নিয়েছে। নিরাপত্তাকর্মী পদে নিয়োগের জন্য একজনের কাছ থেকে প্রধান শিক্ষক ১২ লাখ টাকা নিয়েছে এবং একই পদে নিয়োগের জন্য সভাপতি একজনের কাছ থেকে ১২ লাখ ও আরেকজনের কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা নিয়েছে। আয়া পদের জন্য আরেকজনের কাছ থেকে ৬লাখ টাকা, নৈশ্য প্রহরী পদে সাড়ে ৯লাখ টাকা, পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদের জন্য সাড়ে ৯লাখ টাকা এবং এক চাকরি প্রত্যাশীর বাবা ওই স্কুলে চাকরি করার সুবাদে তার কাছ থেকে অফিস সহায়ক পদের জন্য ৭ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়াসহ স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ করবেন।
এদিকে একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, সাগরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো জমি বা খেলার মাঠ নেই, আমরা স্থানীয়রা চেয়েছিলাম কেউ যদি স্কুলের নামে জমি লিখে দেয়, তাহলে তাকে যেন চাকরি দেওয়া হয়। একজন ১৫শতক জমি দিতেও চেয়েছিল, কিন্তু ফিরোজ চেয়ারম্যান সেটা শোনেননি। যদিও এক চাকরি প্রত্যাশী ১০ শতক জমি লিখে দিয়েছে স্কুলের নামে। তাই ওই ১৫ শতক পেলে স্কুলের সম্পদ আরও বেড়ে যেতো। খেলার মাঠ হতো। এছাড়া যারা টাকা দিয়েছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিয়োগ না পেয়েও স্কুলে কাজ করছে বলে জানান তারা।
টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক মুঠোফোনে বলেন, কে কি নিলো, ওই সম্পর্কে বলার নেই। আপনি ১২ লাখ টাকা নিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এরকম কোনো বিষয় নেই। এছাড়া কোনো চাকরি প্রত্যাশী স্কুলের নামে জমি লিখে দিয়েছে কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এগুলো আপনার জানা লাগবেনা, জানতে হলে অফিসে আসেন। তবে তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে স্কুলের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ হোসেন মুঠোফোনে বলেন, আপনাকে কি বলা লাগবে, কি শুনলে খুশি হবেন? আপনার কাছে কি কেউ অভিযোগ করেছে? আপনি টাকা নিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, এতো গল্প নেই, আপনার কাছে কেউ অভিযোগ দিয়ে থাকলে তাকে নিয়ে আসেন, তাছাড়া মোবাইল নিয়ে নওগাঁ বসে থাকেন মিয়া। টাকা নিয়েছেন কিনা আবারও জিজ্ঞেস করলে, তিনি উত্তেজিত স্বরে জানতে চান কে অভিযোগ করেছে? যদি কেউ অভিযোগ করে, তাহলে তাকে নিয়ে আসেন বলে সংযোগ কেটে দেন তিনি।
টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বদলগাছী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফিউল আলম মুঠোফোনে বলেন, এধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Facebook Comments Box

এই জাতীয় আরও খবর