1. admin@bdtimes24.live : admin :
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা চাইলেন জামায়াত আমির সাইবার বুলিং ও অপতথ্য রুখতে তারেক রহমান সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ স্বপ্নের ফ্ল্যাটের প্রত্যয়ে স্বপ্ন শহর প্রোপার্টিজের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কানাডায় জমজমাট প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির অ্যালামনাই গেট-টুগেদার স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সিকিউরিটিজের ৫৪তম বোর্ড বৈঠক অনুষ্ঠিত জনতা ব্যাংকের এএলএম কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সাইবার আক্রমণ ঠেকানোর প্রশিক্ষণে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে বুটক্যাম্প সোনার বাংলা গড়ার নামে পরিবেশ বিপর্যয়: সাভারের কামালপুরে বন ও কৃষিজমি গিলে খাচ্ছে তথাকথিত রিসোর্ট বিএনপির ট্যাগ নিয়ে রুমিন ফারহানার ফেসবুক পোস্টে নতুন বার্তা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত: ডেপুটি স্পিকার

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা চাইলেন জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশে সময় : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৩ বার পঠিত

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্যকে আগে থেকে অবহিত না করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত না করে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার বিষয়টি তাকে বিস্মিত করেছে। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে আগে আলোচনা করা হলে বিষয়টি আরও সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো।

ঢাকা-১৫ আসনকে রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় এলাকা উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এলাকার জনগণের সুবিধা-অসুবিধার সঙ্গে তাঁর দায়িত্বও জড়িত।

তিনি বলেন, জনগণের সুবিধা-অসুবিধা-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করা হলে বিষয়টি হয়তো আরও সমন্বিত ও ভিন্নভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো।

স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত না করে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তারও দায়িত্ব রয়েছে এবং তাকে সম্পৃক্ত করা যেত। পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে একটি কার্যকর পথ বের করা সম্ভব ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফুটপাত দখলমুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা অস্বীকার না করে শফিকুর রহমান বলেন, সংঘাতের পরিবর্তে এমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথও নির্বিঘ্ন থাকে।

তিনি বলেন, এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ প্রয়োজন। বিচ্ছিন্ন কোনো পদক্ষেপের পরিবর্তে সুপরিকল্পিত ও টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার আগে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন জামায়াত আমির।

তিনি বলেন, যেসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ব্যবসা করে আসছেন, তাদের উচ্ছেদ করার আগে বিকল্প জায়গা বা ব্যবসার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

শফিকুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, একদিকে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে, অন্যদিকে নিম্নআয়ের ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

মিরপুরের ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে একটি গোষ্ঠী নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে বলেও অভিযোগ করেছেন শফিকুর রহমান।

তিনি দাবি করেন, এসব ব্যক্তি দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে চাঁদা নিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সেখানে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, এটি নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড এবং এর আর্থিক বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতা ও জনগণের ওপর গিয়ে পড়ে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। অভিযানকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের একাংশ ডিএনসিসির গাড়িতে হামলা চালায়। পরে সিটি করপোরেশনের কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগও ওঠে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

ঘটনার পর ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান ঘটনাটিকে পরিকল্পিত বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, উচ্ছেদ অভিযানের সময় সিটি করপোরেশনের পরিবহন, সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ‘ফ্যাসিজমের দোসররা’ পরিকল্পিতভাবে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ডিএনসিসি ও পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করার কথা জানান তিনি।

ডিএনসিসি প্রশাসক আরও বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে কোনো গোষ্ঠীর ইন্ধনে আবার ফুটপাত দখলের চেষ্টা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিরপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বক্তব্যে উচ্ছেদ কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সামনে এসেছে। ডিএনসিসি বলছে, পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য ফুটপাত দখলমুক্ত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে শফিকুর রহমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

এর আগে ডিএনসিসি প্রশাসকও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতের পথচারীদের চলাচল সহজ করার পাশাপাশি নিম্নআয়ের ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিলেন।

শফিকুর রহমান ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করার প্রত্যাশা জানিয়েছেন। তার মতে, সমন্বিত, সুপরিকল্পিত ও টেকসই উদ্যোগের মাধ্যমেই পথচারীদের চলাচল এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার বিষয়টি একসঙ্গে বিবেচনা করা সম্ভব।

Facebook Comments Box

এই জাতীয় আরও খবর