
সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রশাসনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট কায়সার কামাল।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলায় আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সুস্পষ্ট বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা লুটপাটকারীদের কোনো ক্ষমা নেই এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংস্কার কার্যক্রম পুরোদমে এগিয়ে চলছে।
তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতে হতদরিদ্র, বিধবা ও বয়স্কদের সামাজিক সুরক্ষা ভাতার টাকা ভুয়া মোবাইল নম্বরে স্থানান্তর করে যারা আত্মসাৎ করেছে, তাদের প্রত্যেককে তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে ডিজিটাল তালিকায় অনিয়ম করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বঞ্চিত করার প্রমাণ পেয়েছে প্রশাসন। কায়সার কামাল ঘোষণা দেন যে, আত্মসাৎকৃত প্রতিটি পয়সা উদ্ধার করে প্রকৃত দরিদ্রদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং এ ধরনের জঘন্য অপরাধে জড়িত কোনো কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধিকে কোনো রাজনৈতিক ছাড় দেওয়া হবে না।
বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটায় আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দিনের বেলা অপ্রয়োজনীয় বাতি ও ফ্যান বন্ধ রেখে সবাইকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানান। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, বিশ্ববাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং সঞ্চালন লাইনের ত্রুটির কারণে সাময়িক লোডশেডিং হচ্ছে; তবে সরকার খুব দ্রুত এই সংকট সমাধানের জন্য নতুন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতের চেষ্টা করছে। তিনি প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিল্প কারখানা ও সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
নেত্রকোণার কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরের পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত গারো ও হাজংসহ অন্যান্য সমতল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রশংসা করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, শত প্রতিকূলতা ও বঞ্চনার মধ্যেও এই মানুষেরা সততা ও নীতিবোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি ঘোষণা দেন যে, সমতল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সরকারি উপবৃত্তি চালু করা হবে এবং ভূমিহীনদের জন্য আধুনিক পাকা বাসস্থান তৈরি করে দেওয়া হবে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পৈতৃক ভূমির অধিকার রক্ষায় প্রশাসন কঠোর ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি নিশ্চয়তা দেন।
ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট কায়সার কামাল রবিবার স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে বলেন, “আমরা কোনো দলীয় বিভেদ বা পক্ষপাতিত্বকে প্রশ্রয় দেব না; গারো ও হাজং সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উপবৃত্তি এবং ভূমিহীনদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করাই আমাদের মূল অঙ্গীকার।” নিজেকে এই অঞ্চলের একজন ‘মালী’ হিসেবে তুলনা করে তিনি বলেন, কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরকে একটি সুন্দর বাগানের মতো সাজাতে তিনি দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। তিনি একটি শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।