
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক বেতনের ১০% হারে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে কেটে রাখলেও অবসরে যাওয়ার ৪-৫ বছরের পরেও শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের জমানো টাকা ফেরত পায় না। দীর্ঘদিন ধরে আবেদন নিষ্পত্তি না করায় প্রায় এক লক্ষ আবেদন পেন্ডিং আছে। অনেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন ও মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
প্রায় এক লক্ষাধিক পেন্ডিং আবেদন সমূহের দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে গতকাল প্রেস ক্লাবের সামনে এমপিওভুক্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী সমন্বিত ফোরাম-এর এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে সকল পেন্ডিং আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন দেশমাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরকালীন দুর্দশার কথা চিন্তা করে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শিক্ষক-কর্মচারীগণ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দুর্দশা লাঘবে উনার মায়ের মতো ভুমিকা পালন করবেন। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা প্রকাশিত বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে শিক্ষকদের জমানো টাকা সরকারী বিধি উপেক্ষা করে শিক্ষক-কর্মচারীদের জমানো প্রায় ৭০০০ কোটি টাকা বেসরকারী ব্যাংকে রাখা হয়েছিল ব্যাংক কতৃপক্ষ এই টাকা আত্মসাৎ করেছে শিক্ষক-কর্মচারীদের জমানো টাকা দ্রুত উদ্ধার করে শিক্ষকদের পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে।
বিগত সরকার বিভিন্ন সময়ে অবসর ও কল্যাণ বোর্ডে সীড মানি বা বন্ড আকারে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং এর লভাংশ থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের টাকা পরিশোধ করা হতো। সীড মানি ব্য বন্ড আকারে টাকা বরাদ্দ এক শুভংকরের ফ্াকি। সীড মানি ও বন্ড আকারে টাকা বরাদ্দ না করে শিক্ষা বাজেট হতে সরাসরি টাকা বরাদ্দ দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে।
সংগঠনের আহবায়ক মোহাম্মদ মোহসীন আলীর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব জহুরুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম (বাবেশিকফো) সভাপতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের আহবায়ক অধ্যক্ষ মোঃ মাইন উদ্দীন, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মোঃ জসীম উদ্দীন, অধ্যক্ষ এনামুল ইসলাম (সভাপতি, ফোরাম), অধ্যক্ষ হারুন-অর-রশিদ (মহাসচিব, ফোরাম), অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী সমন্বিত ফোরামের সমন্বয়ক মোঃ বাসেত আলী, বাবেশিকফো সহ সভাপতি শাহ আলম, উপাধ্যক্ষ আবদুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক আবদুল হাই সিদ্দিকী, প্রভাষক মোঃ ইসমাইল হোসেন, বি.এম জহুরুল ইসলাম (সভাপতি, যশোর), মেজবাহুল ইসলাম প্রিন্স, সাহিদুল ইসলাম, মোঃ জসিম উদ্দিন, মোঃ শামীম, রতন কুমার দেবনাথ, মাওলানা আহাদুল ইসলাম, কে এম আজগর আহমেদ, বাবেশিকফো সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান, আব্দুল হালিম, আমাতুন নাহার, মোঃ ফরিদ উদ্দীন, বাসির উদ্দিন, নারী নেত্রী আফরোজা শ্রাবণ, প্রভাষক সকরিনা সিদ্দিকা, সুপার আবদুল মান্নান, মতিউর রহমান দুলাল, এম এ মান্নান, আফজালুর রশিদ, লুৎফর রহমান প্রমূখ।