
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো শেডে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
শুক্রবার গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
তিনি বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন লাগার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী প্রশ্ন তুলে বলেন, অতীতের বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনে শর্টসার্কিটের কথা উঠে এলেও একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে কেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কোথাও কোনো গাফিলতি থাকলে তা চিহ্নিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, তদন্ত কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং দায়িত্বে অবহেলার বিষয়গুলো বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
গত বছরের অক্টোবরে একই কার্গো এলাকায় আগুন লাগার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের আওতায় আধুনিক কার্গো সুবিধা নির্মাণের পরিকল্পনা থাকায় নতুন স্থায়ী শেড নির্মাণ করা হয়নি। জাপানের সহযোগিতায় বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের জন্য আধুনিক গুদাম নির্মাণের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রয়োজন বিবেচনায় স্থায়ী অবকাঠামোর পরিবর্তে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে ভাবা হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব পাবে।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে আরও বিস্তৃত তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।