1. admin@bdtimes24.live : admin :
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা চাইলেন জামায়াত আমির সাইবার বুলিং ও অপতথ্য রুখতে তারেক রহমান সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ স্বপ্নের ফ্ল্যাটের প্রত্যয়ে স্বপ্ন শহর প্রোপার্টিজের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কানাডায় জমজমাট প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির অ্যালামনাই গেট-টুগেদার স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সিকিউরিটিজের ৫৪তম বোর্ড বৈঠক অনুষ্ঠিত জনতা ব্যাংকের এএলএম কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সাইবার আক্রমণ ঠেকানোর প্রশিক্ষণে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে বুটক্যাম্প সোনার বাংলা গড়ার নামে পরিবেশ বিপর্যয়: সাভারের কামালপুরে বন ও কৃষিজমি গিলে খাচ্ছে তথাকথিত রিসোর্ট বিএনপির ট্যাগ নিয়ে রুমিন ফারহানার ফেসবুক পোস্টে নতুন বার্তা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত: ডেপুটি স্পিকার

আলু গাছ বড় হওয়ার পর পরিচর্যা অধিক ফলনের নিশ্চয়তা

আব্দুর রশিদ:
  • প্রকাশে সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৩৫২ বার পঠিত

বাংলাদেশে শীতকালীন মৌসুমে আলু একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। রোপণের ৩০-৪৫ দিনের মধ্যে আলু গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ফুল আসতে শুরু করে। এ সময় থেকেই মাটির নিচে কন্দ গঠন ও বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। তাই গাছ বড় হওয়ার পর সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলে ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে এই পর্যায়ে সামান্য অবহেলাও ফলনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

মাটি তুলে দেওয়া: ফলন বৃদ্ধির প্রধান উপায়
গাছ ২০-২৫ সেন্টিমিটার হলে এবং ফুল আসার আগেই শেষবারের মতো মাটি তুলে গোড়ায় চাপা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এতে কন্দ গঠনের জন্য বাড়তি জায়গা তৈরি হয় এবং কন্দ সবুজ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। একই সঙ্গে গাছ মজবুত থাকে ও ঝড়ে হেলে পড়ে না। তবে মাটি তোলার আগে জমিতে পানি জমে আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে।

সেচ ব্যবস্থাপনা: পরিমিত পানিই সাফল্যের চাবিকাঠি
ফুল আসা ও কন্দ বড় হওয়ার সময় আলু গাছের পানির চাহিদা বেশি থাকে। মাটির উপরিভাগ শুকিয়ে এলে হালকা সেচ দিতে হবে। সাধারণত ৭–১০ দিন অন্তর সেচ দেওয়া উপযোগী, তবে আবহাওয়া ও মাটির ধরন অনুযায়ী এ সময় কমবেশি হতে পারে। অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে কন্দ পচা ও রোগবালাই বৃদ্ধি পায়-এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

উপরি সার প্রয়োগ: সুষম পুষ্টি নিশ্চিতকরণ
রোপণের সময় সম্পূর্ণ সার প্রয়োগ না করা হলে, এ পর্যায়ে ইউরিয়ার অবশিষ্ট অংশ উপরি প্রয়োগ করা যেতে পারে। কন্দ বৃদ্ধির জন্য পটাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে মাটি পরীক্ষার ভিত্তিতে পটাশ ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট (জিংক, বোরন) পাতায় স্প্রে করা যেতে পারে। তবে যেকোনো রাসায়নিক প্রয়োগের আগে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়া উত্তম।

রোগবালাই দমন: সতর্কতাই নিরাপত্তা
এই সময়ে আলু গাছে লেট ব্লাইট (মড়ক রোগ) আক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে, বিশেষত কুয়াশা ও ঠান্ডা আবহাওয়ায়। প্রতিরোধমূলক ছত্রাকনাশক ৭-১০ দিন অন্তর স্প্রে করলে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এছাড়া এফিড বা রসচোষা পোকা দেখা দিলে হলুদ আঠালো ফাঁদ ব্যবহার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত কীটনাশক প্রয়োগ করা যেতে পারে। আক্রান্ত পাতা বা গাছ দ্রুত তুলে ধ্বংস করা উচিত।

আগাছা নিয়ন্ত্রণ ও জমি পরিচ্ছন্ন রাখা
আগাছা জমির পুষ্টি ও পানি শোষণ করে ফলন কমিয়ে দেয়। তাই নিয়মিত নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। জমি ঝুরঝুরে রাখলে কন্দ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

ফসল সংগ্রহের প্রস্তুতি
গাছের পাতা হলুদ হয়ে শুকিয়ে গেলে বুঝতে হবে আলু সংগ্রহ উপযোগী হয়েছে। সংগ্রহের ১০–১২ দিন আগে সেচ বন্ধ রাখলে কন্দের খোসা শক্ত হয় এবং সংরক্ষণক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

অধিক ফলনের করণীয় সংক্ষেপে
সময়মতো মাটি তুলে দেওয়া
পরিমিত ও সঠিক সময়ে সেচ
সুষম সার প্রয়োগ
নিয়মিত রোগবালাই পর্যবেক্ষণ
জমি আগাছামুক্ত রাখা

উপসংহার
আলু গাছ বড় হওয়ার পর পরিচর্যার প্রতিটি ধাপ ফলনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। পরিকল্পিত সেচ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা ও রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে কৃষক সহজেই অধিক ফলন ও আর্থিক সাফল্য অর্জন করতে পারেন। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই আলু চাষে লাভের মূল চাবিকাঠি।

 

Facebook Comments Box

এই জাতীয় আরও খবর