1. admin@bdtimes24.live : admin :
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা চাইলেন জামায়াত আমির সাইবার বুলিং ও অপতথ্য রুখতে তারেক রহমান সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ স্বপ্নের ফ্ল্যাটের প্রত্যয়ে স্বপ্ন শহর প্রোপার্টিজের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কানাডায় জমজমাট প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির অ্যালামনাই গেট-টুগেদার স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সিকিউরিটিজের ৫৪তম বোর্ড বৈঠক অনুষ্ঠিত জনতা ব্যাংকের এএলএম কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সাইবার আক্রমণ ঠেকানোর প্রশিক্ষণে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে বুটক্যাম্প সোনার বাংলা গড়ার নামে পরিবেশ বিপর্যয়: সাভারের কামালপুরে বন ও কৃষিজমি গিলে খাচ্ছে তথাকথিত রিসোর্ট বিএনপির ট্যাগ নিয়ে রুমিন ফারহানার ফেসবুক পোস্টে নতুন বার্তা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত: ডেপুটি স্পিকার

টেন্ডার বিহীন অর্থ লোপাট মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানীর

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • প্রকাশে সময় : বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৫৩ বার পঠিত

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানির বিরুদ্ধে অর্থ লোপাট ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। টেন্ডার ছাড়া কাজ পাওয়া এবং ইচ্ছেমতো পাথর উত্তোলন, লেবার নিয়োগ, উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল ক্রয় ও বিপণনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই অনিয়ম করেছে বলে অভিযোগ।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি, যা কিনা পেট্রোবাংলার একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত। বিশেষ করে, টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বিভিন্ন কাজ ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে দেওয়া এবং এতে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে, কোম্পানীর অভ্যন্তরীণ ও বাইরের বিভিন্ন মহল থেকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিষয়ে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানী পেট্রোবাংলার অধীন একটি প্রতিষ্ঠান। যার মূল উৎপন্ন দ্রব্য পাথর। এই পাথর উৎপাদন ব্যয় নির্ভর করে উৎপাদন খরচের উপর। তবে উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল ক্রয় ও লেবার নিয়োগের মধ্যে রয়েছে ব্যপক অনিয়ম। গত স্বৈরাচার সরকারের সময় সুবিধাভোগী শ্রেণি টেন্ডার ছাড়া অবৈধভাবে চাপ দিয়ে জিটিসির (জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম) সঙ্গে ৬ বছর ধরে কাঁচামাল সরবরাহের জন্য চুক্তি করে নেয়া হয়। যা এখনো সেই চুক্তি বলবৎ আছে। ফলে দেশের কোটি কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারে (ডেটেনটর ও এমোনিয়াম নাইট্রেট) কাঁচামালের মূল্য অনেক হ্রাস পেয়েছে। অথচ জিটিসির (জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম) মাধ্যমে টেন্ডার ছাড়া প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ অধিক মূল্যে কাঁচামাল ক্রয় করছে।

অভিযোগ আছে, মধ্যপাড়া মাইনিং গ্রানাইট কোম্পানির জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করা কাঁচামালে বাজার মুল্য থেকে ৩০-৪০ শতাংশ বেশি দাম দেখানো হচ্ছে। কোন ধরনের টেন্ডার ছাড়াই এই কাজ করে যাচ্ছে কোম্পানিটি। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কাঁচামাল হিসেবে ডিটোনেটর এনং এমোনিয়াম নাইট্রেড ক্রয় করা হচ্ছে। সেগুলোও বাজার মুল্য থেকেও অনেক বেশি দামে ভাউচার করে থাকে।

শ্রমিক নিয়োগ নিয়েও রয়েছে অস্বচ্চতার অভিযোগ। কাগজে কলমে অনেক শ্রমিক থাকলেও বাস্তবে তা নেই। এছাড়া আন্তর্জাতিক আইন মেনে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা না দেয়া ও যখন তখন শ্রমিক ছাটাইয়ের অভিযোগ রয়েছে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে। এছাড়া দেশের কনস্ট্রাকশন খাতে কম দামে পাথর সরবরাহে প্রতিষ্ঠানটি ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে বাজার হারাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। যা ধীরে ধীরে পেট্রোবাংলার এ প্রতিষ্ঠানটি রুগ্ন প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত হচ্ছে।

জিটিসি (জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম) গত ৩-৪ বছরে পেট্রোবাংলার অবৈধভাবে কোটি টাকা লুটপাট করছে। যার হিসাব হওয়া জরুরী বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, কোম্পানিটির অর্থ লোপাটের হিসাব হওয়া জরুরী। জিটিসি (জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম) একটি কনসালিটিং ফার্ম। অথচ টেন্ডার ছাড়া টানা ৬ বছর পন্য সরবরাহের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তাদেরকে জবাবদিহির ভেতর আনা উচিৎ বলে মনে করেন তারা।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সৈয়দ রফিজুল ইসলাম বলেন, ‘এটা ওপেন টেন্ডার করা হয়। সেখানে যে রেট পড়ে সে দামেই কেনা হয়। ওখানে ৩-৪টা রেট পড়ে। এখন মূল বিষয় হলো আন্তর্জাতিক বাজারে দামটা অনেক কমে গেছে। মার্কেট আপ ডাউন করে। যুদ্ধের সময় দাম বেশি ছিল। এখন দাম কমে গেছে। এটা এমার্জেন্সি আইটেম। যে ভেন্ডর, সে বেশি দাম চাচ্ছে। এখন মার্কেটে যদি ৩০টাকা দাম থাকে আর সে যদি ১০০ টাকা চায় তাহলে আমরা কী কিনবো? এটা জনগণের টাকা। তাই রাষ্ট্রের স্বার্থে কিছু কাঁচামাল ডাইরেক্ট কেনা হচ্ছে। এখন আমি চাইলেই ইচ্ছেমতো সবখান থেকে কিনতে পারবো না।
ওপেন টেন্ডার আহ্বান করা হয় কী না – জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই। ওপেন টেন্ডার আয়োজন করা হয়। টেন্ডার ছাড়া কিছু করা হয় না। এখন মাইন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই আমরা সরকারি আদেশ ফলো করেই করে থাকি।

এমন অভিযোগ কেউ করলে সেটা সঠিক নয়। পিপিআরের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা ওপেন টেন্ডারে কিনি বা লিমিটেড টেন্ডারে কিনি-পিপিআরের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।
জিটিসির সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জিটিসির সঙ্গে ৬ বছরের চুক্তি করা হয়েছে। তিন বছর শেষ, এখনো তিন বছর আছে। তারা কনটালটেশন নয়, তারা প্রোডাকশন ডেভেলপমেন্ট করে থাকে। আপনারা তো জানেনই গত সরকারের আমলে কেমনে চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তি রিভিউ করার জন্য উপরে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করতাছি। এটা একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে।

এক প্রশ্নে জাবাবে তিনি বলেন, ‘এখানে প্রোডাকশন হচ্ছে প্রতিদিন। এই পাথরগুলো যাচ্ছে সরকারি প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে। এখন তাদের হঠাৎ বাদ দিয়ে দিলে চালাবে কে? এটা চালানোর মতো প্রযুক্তি ও ম্যান পাওয়ার আমাদের নেই। আমরা ধীরে ধীরে ডেভলপ করতাছি। ইনশাআল্লাহ দ্রুতই আমরা শূণ্যস্থান পূরণ করে ফেলবো। আর চুক্তি বাতিল করারও প্রক্রিয়া আছে। সে গুলো চলমান আছে। আমাদের এখান থেকে কিছু করা নেই। আর শ্রমিকের বিষয়টা আমরা দেখি না। তা ঠিকাদার বলতে পারবে। কত লেবার নিবে এটা আমাদের জানার দরকার নেই। ওদের আমাদের চুক্তি ৫ টনে এতা টাকা পাবে। এখন সেই পাঁচ টন পাথর ওঠাতে ওরা যদি ৫০০ লেবার ব্যবহার করে- সেটা আমাদের দেখার দরকার নেই। আবার তারা যদি কোন লেবার ছাড়াই কাজ করতে পারে তাতেও আমাদের কোন আপত্তি নেই।

জিটিসির (জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম) কর্মকর্তা ডা. ফারুখ হোসাইন বাবুকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

Facebook Comments Box

এই জাতীয় আরও খবর