1. admin@bdtimes24.live : admin :
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা চাইলেন জামায়াত আমির সাইবার বুলিং ও অপতথ্য রুখতে তারেক রহমান সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ স্বপ্নের ফ্ল্যাটের প্রত্যয়ে স্বপ্ন শহর প্রোপার্টিজের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কানাডায় জমজমাট প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির অ্যালামনাই গেট-টুগেদার স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সিকিউরিটিজের ৫৪তম বোর্ড বৈঠক অনুষ্ঠিত জনতা ব্যাংকের এএলএম কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সাইবার আক্রমণ ঠেকানোর প্রশিক্ষণে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে বুটক্যাম্প সোনার বাংলা গড়ার নামে পরিবেশ বিপর্যয়: সাভারের কামালপুরে বন ও কৃষিজমি গিলে খাচ্ছে তথাকথিত রিসোর্ট বিএনপির ট্যাগ নিয়ে রুমিন ফারহানার ফেসবুক পোস্টে নতুন বার্তা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত: ডেপুটি স্পিকার

ইউনিয়ন অফিস কে কেন্দ্র করে তিতাস গ্যাসে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
  • প্রকাশে সময় : বুধবার, ৬ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৭১ বার পঠিত

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি’র অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী খন্দকার জুলফিকার মতিনের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। চক্রটি যে কোন সময় জোরপূর্বক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাধ্যমে তিতাস গ্যাসের প্রধান কার্যালয়ে শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের অফিসে প্রবেশ করতে পারে।

এ বিষয়ে আশংকা প্রকাশ করে তিতাস গ্যাস জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (রেজিঃ বি ১৯৪০) এর একাধিক সদস্য এই প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি’ দেশের সর্ববৃহৎ গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান। গত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা তিতাস গ্যাসের শ্রমিক লীগ সমর্থিত সিবিএ নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করে চলেছেন তারাই আবার চব্বিশের ৫ আগস্টের পর ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর বিএনপি সমর্থিত শ্রমিক সংগঠনে এসে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি কে নেতৃত্বে আনার চক্রান্ত করে চলেছেন। যার কারনে তিতাস গ্যাসে কর্মরত প্রকৃত কর্মচারী এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (রেজিঃ নং বি-১৯৪০) এর ত্যাগী নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। গত ৩০/০৮/২০২৩ তারিখে তিতাস গ্যাস থেকে অবসরে যান খন্দকার জুলফিকার মতিন।

তিতাস গ্যাস জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রের ৪ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত ব্যাক্তির ইউনিয়ন করার অধিকার নেই। শুধুমাত্র বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্যের আত্মীয় পরিচয়ে খন্দকার জুলফিকার মতিন ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চান বলেও জানান তিতাস গ্যাসের জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সদস্যগণ। গত ৫ আগস্টের পর খন্দকার জুলফিকার মতিন,ও তিতাস গ্যাসের সুবিধাভোগী একটি চক্র বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বদলি বাণিজ্য, অবৈধ গ্যাস সংযোগ থেকে মাসোহারা আদায়, নতুন সংযোগের তদবির করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়াও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন না করে আওয়ামী লীগের লোকজনকে পুনর্বাসন করে। যার কারনে ক্ষিপ্ত হয়ে সাধারণ কর্মচারীরা তাদের প্রতি বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এ নিয়ে গত মার্চের শেষের দিকে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। ফলশ্রুতিতে ইউনিয়ন রুমে তালা বদ্ধ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট চাবি হস্তান্তর করাহয়।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে খন্দকার জুলফিকার মতিন ও তার বাহিনী বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে তিতাস গ্যাসের জিএম সৈয়দা আতিয়া বিলকিস কে নানা হুমকি-ধমকি প্রদর্শন করে। তাকে উচ্চকণ্ঠে গালিগালাজ করে। বাধ্য হয়ে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নির্দেশে নিরাপত্তা বিভাগের ডিজিএম জনাব শরিফুল ইসলাম তেজগাঁও থানায় বিষয়টি নিয়ে সাধারণ ডায়েরি করেন। ভবিষ্যতে বিবদমান দুটি গ্রুপের মধ্যে সমঝোতা হলে ইউনিয়ন অফিস খুলে দেওয়া হবে মর্মে সিদ্ধান্ত হয়। অদ্যাবধি সেই অবস্থা বজায় রয়েছে। কিন্তু শ্রমিক কর্মচারীদের সমর্থন হারানো খন্দকার জুলফিকার মতিন বাহিনী কোথাও কোন আইনি সহায়তা না পেয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা যে কোন মূল্যে তিতাস গ্যাসের ইউনিয়ন অফিস দখল করতে চায়। অন্যদিকে সাধারণ শ্রমিক কর্মচারীরা তাদের প্রতিহত করতে সজাগ রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিতাস গ্যাসে একটি ঠান্ডা লড়াই বিরাজমান। যা যেকোনো মুহূর্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এর পিছনে বিবদমান দুই গ্রুপের মধ্যে যেসব ঘটনা রয়েছে সেগুলো তুলে ধরা হলো।

তিতাস গ্যাস জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন, রেজিস্ট্রেশন নম্বর- বি-১৯৪০ এর কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনে শ্রমিক কর্মচারীদের মতামত উপেক্ষা করে ২০২৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী খন্দকার জুলফিকার মতিন সাধারণ সভা আয়োজন করে এবং ১৭ সেপ্টেম্বর একটি কাগুজে নির্বাচনের মাধ্যমে তার অনুগত লোকদের নিয়ে গঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির তালিকা শ্রম অধিদপ্তরে জমা দেন। নির্বাচনটি যথাযথভাবে অনুষ্ঠিত না হওয়ায় একই বছরের ৯ অক্টোবর শ্রম অধিদপ্তর এই কমিটি গ্রহণের আইনানুগ সুযোগ নেই বলে জানান। এর পর অপর গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোজাহিদুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস.এম. হারুন আল রশিদ এর আবেদন প্রাপ্তির পর ১৭/১০/২৩ তারিখে সাধারণ সভা সহ নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে শ্রম অধিদপ্তর নির্দেশনা দেয়।

পরবর্তীতে জুলফিকার মতিন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১ম শ্রম আদালতে মামলা করে হেরে গিয়ে ২০২৪ সালের ৭ জুলাই হাই কোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন এবং ৬ মাসের স্থগিতাদেশ আনেন। সেই স্থগিত আদেশ চলমান থাকাকালীন সময়ে ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত দেখিয়ে ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ সালে শ্রম অধিদপ্তর থেকে কমিটি দেয়া হয়। হাইকোর্টে স্থগিতাদেশ থাকা অবস্থায় দেয়া এই কমিটি আদালত অবমাননার শামিল। এছাড়াও ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বরের নির্বাচন, কমিটির বিরুদ্ধে ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে বিজ্ঞ ১ম শ্রম আদালত, ঢাকায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

সেই মামলায় নোটিশ প্রাপ্তির পর অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী খন্দকার জুলফিকার মতিন ও জাহাঙ্গীর হোসেন ২০ এপ্রিল ও ১ জুলাই ২০২৫ শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন এবং এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২১ আগষ্ট ধার্য রয়েছে। মামলা চলমান অবস্থায় শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রভাব খাটিয়ে উচ্চ আদালত অবমাননার মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে শ্রম অধিদপ্তর থেকে কমিটি দেয়ার বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিতাস গ্যাস জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সদস্যরা। তারা বিবদমান দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ এড়াতে একটি সুষ্ঠু সমাধানে পৌঁছাতে অনুরোধ করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

Facebook Comments Box

এই জাতীয় আরও খবর