
(অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পর্ব)–০১।
মুন্সীগঞ্জ জেলা শ্রীনগর থানাধীন ভাগ্যকুল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও সাবেক ভাগ্যকূল ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও ভাগ্যকুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ মোশারফ হোসেন বেপারী বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন হত্যা মামলা এবং পারভেজ নামক ব্যক্তিকে হত্যার চেষ্টা মামলায় ১ নং আসামী।
উক্ত আসামীকে গ্রেফতার করছে না শ্রীনগর থানা পুলিশ এমনই অভিযোগ উঠেছে মামলার বাদিসহ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর মোশারফ হোসেন বেপারী প্রতিদিন ভাগ্যকুল ইউনিয়ন পরিষদে যান এবং বহু মামলা ঘাড়ে নিয়ে অফিস করছেন। কিন্তু মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুল রাজ্জাকের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হয়,আসামী মোশারফ হোসেন প্রকাশ্যে ঘুরছেন ও ভাগ্যকূল ইউনিয়ন পরিষদের নিয়মিত অফিস করছেন তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না কেন? তিনি জানান, উক্ত মামলায় কয়েক আসামী জামিনে রয়েছেন বাকি আসামিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রযেছে। আমাদের এলাকাবাসীর ধারণা ছাত্র-জনতা হত্যাকারীসহ বহু মামলার আসামী ভাগ্যকুল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন শ্রীনগর থানা পুলিশকে মোট অংকের টাকা খাওয়াইয়া প্রকাশ্যে এলাকায় বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করছেন।
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোসর মোশারফ হোসেনকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে শ্রীনগর থানার ওসি এবং উক্ত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুল রাজ্জাক!
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে ভাগ্যকুল ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট ব্রিজ কালভার্ট সহ সরকারি নানা প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং ওই অর্থ দ্বারা মোশারফ হোসেনের তার নিজ গ্রামের বাড়িতে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করে একটি গরুর খামার তৈরি করেছেন। উক্ত গরু খামারের বজ্রের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছেন আশেপাশে স্থানীয় জনসাধারণ।
উক্ত বিষয়টি প্রতিবাদ করলে হত্যা মামলার আসামী মোশাররফ হোসেন গংরা এলাকাবাসীকে বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। তারই মধ্যে পশ্চিম কামারগাঁও জামাই পাড়া রাস্তাটির বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাৎ করেছেন মোশাররফ হোসেন অভিযোগ রয়েছে এলাকাবাসী। এই ধরনের বহু ব্রিজ কালভার্ট রাস্তার অনুদানের টাকা আত্মসাৎ করেছে।
এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে উল্টো শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ কে দিয়ে এলাকার জনসাধারণকে হয়রানি করার চেষ্টা করছেন হত্যা মামলার আসামী আওয়ামীলীগ নেতা মোশাররফ হোসেন। এতে করে বুঝা যায় আওয়ামীলীগ দোসরদের পক্ষপাতিত্ব করছেন শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ। এ বিষয়ে ভাগ্যকুল ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোহাম্মদ আজিজুল হকের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান,প্যানেল চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন প্রতিদিন ভাগ্যকূল ইউনিয়ন পরিষদে অফিস করছেন তা সত্য তবে তার মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। এদিকে মোশারফ হোসেন প্রতিদিন ভাগ্যকুল ইউনিয়ন পরিষদে অফিস করছেন কোন অদৃশ্য ছায়া থাকায় গ্রেফতার করা হচ্ছে না বিষয়টি জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা এস আই আব্দুর রাজ্জাক এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে ভাগ্যকুল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানা বৈষম্য ছাত্র আন্দোলন হত্যা মামলা হয়েছিল, ঐই মামলায় মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগর থানায় তদন্ত আসে আমি ভালো কি খারাপ সে পরিপেক্ষিতে শ্রীনগর থানার কর্মকর্তাদের সাথে ও মামলার বাড়ির সাথে কথা বলে আপস মীমাংসা করেছি। অন্যদিকে পারভেজ নামক যে মামলার বাদী রয়েছেন তিনি যে মামলাটা পড়েছেন এটি ষড়যন্ত্রমূলক আমার একটি গরুর খামার রয়েছে ওই খামার নিয়েই তাদের সাথে বিরোধ চলছে তারা আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন আমিও তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেছি।
মোশারফ হোসেন আরো জানান, আমি কোন দিন আওয়ামীলীগের রাজনীতি সাথে জড়িত ছিলাম আমার কোন রাজনৈতিক দলের পদ পদবী নাই।