
জুলাই আন্দোলনের অগ্র সৈনিক বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছে শরীলের অসহ্য যন্ত্রনায়। অর্থাভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না জুলাই বিপ্লবে আহত শাহজাহান নামের একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ধারদেনা করে ডান পায়ের দুটি অপারেশন করলেও ঠিকমতো ওষুধ কেনার অর্থও নেই বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা দাওগাঁও ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বাদেপাবইজান গ্রামের হেকমত আলীর ছেলে শাহজাহান । তিনি কালিবাড়ি বাজারের একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। কালিবাড়ী বাজারে ছোটখাটো কাপরের ব্যবসায় করে ৭ জনের সংসার চালাতেন তিনি। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন শাহজাহান। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
বাবা ,ভাই, স্ত্রী ,তিন সন্তান সহ পরিবারের সকলের দ্বায়ীত্ব ছিল শাহজাহানের উপর। আহত হয়ে এখন তিনিই পরিবারের বুঝা হয়ে পরেছেন বলে জানালেন। তার পিতা একজন বয়স্ক মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই কর্মহীন সেটাও জানালেন অস্ত্রুবেজা চোঁখে।
গত বছরের ৫ আগস্ট সকালে মুক্তাগাছা কালিবাড়ি বাজারে সরকার পতনের আন্দোলনের মিছিলে যোগ দেন শাহজাহান। স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতারা হামলা করলে তার ডান পা ভেঙে যায়। তাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সদস্যরা। এতে তার শরীর থেঁতলে যায় এবং ডান পা ভেঙে যায়। সঠিক চিকিৎসার অভাবে এখন বিছানায় কাটছে তার দিন-রাত।
আহত শাহজাহান বলেন,আমি দেশের প্রয়োজনে পা হাড়িয়েছি,মৃত্যু হলেও পিছু হটতাম না। মনের মধ্যে দুঃখ একটাই যারা একসাথে আন্দোলন করলাম তারা অনেকেই গাড়ি বাড়ির মালিক হয়ে গেছে কিন্তু আমি টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারছি না। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে আরও বলেন,বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা কয়েকবার আমাকে বাসায় দেখে গেছে কিন্তু আজও কেউ কোন প্রকার অর্থনৈতিক সহযোগিতা করল না। ছাত্র আন্দোলনের কেউ আমাকে দেখতেও আসলো না। আমি সরকারের কাছে জানতে চাই তাহলে চিকিৎসার অভাবে কি আমার মৃত্যু হবে ?
স্থানীয় মোকাদ্দেস মাস্টার,মজিবর রহমান ও মোবারক হোসেন বলেন,ছেলেটা আন্দোলনে অনেক সময় দিয়েছে পা হারিয়ে এখন বিছানায় পরে আছে কেউ কোন প্রকার সহযোগিতার হাত বাড়ায় নি। আমরা চাই সরকারের সহযোগিতায় তার শরীরের চিকিৎসা করানো হোক। তার দুইটা মেয়ে ও একটি ছেলে আছে তাদেরকে কে দেখে বলুন। তার নাম তালিকায় কেন নাই আমাদের বুজে আসে না।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও শিল্প শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ময়মনসিংহের সভাপতি মো. লিটন মিয়া বলেন,আমরা চাই জুলাই আন্দোলনে যারা আহত বা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হোক। ময়মনসিংহে যারা আহত অবস্থায় আছে তাদের সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। বিশেষ করে মুক্তাগাছার শাহজাহান বিছানায় পরে ধুকে ধুকে মরছে তার চিকিৎসার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন কোন ভ’মিকা নেয় নাই বিষয়টি সত্যিই দুঃখ জনক।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম বলেন,আমরা কয়েক দফায় আবেদন নিয়েছি এবং আবেদন যাচাই-বাচাই করে তালিকা ভ’ক্ত করেছি। তালিকাভ’ক্তদের সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। সে যেহেতু তালিকাভুক্ত নয় আবেদন করুক যাচাই-বাচাই করে তাকে সহযোগিতা করা হবে।