
নওগাঁর পোরশা উপজেলার দোয়ার পাল গ্রামের সুলতান আহমেদ এম এ পাশ করার পর চাকুরীর পেছনে না ঘুরে, করেছেন আমের বাগান এতেই তার ঘুরে যায় ভাগ্য । কর্মসংস্থান দিয়েছেন ৪০ জন খেটে খাওয়া মানুষের। ২০১৮ সালে ৯০বিঘা জমি বর্গা নিয়ে সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে এসব আমের চাষাবাদ করছেন তিনি।
এসব জাতের আমের চারা সরকারি নার্সারিসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করেছেন।আর এই বাগান গড়ে তুলেছেন সাপাহার উপজেলা শহরের ২কি:মি: দুরে ফুটকইল গ্রামে। সুলতানের আমবাগান ঘুরে দেখা যায়, গাছে ঝুলছে নানা রঙের বিভিন্ন প্রকারের আম। কাঁচাপাকা আমে ভরে গেছে বাগান। থোকায় থোকায় ঝুলছে হালকা খয়েরি, হালকা কাঁচা হলুদ ও সবুজ রঙের আম। পোকামাকড় থেকে রক্ষা করতে কিছু আম ফ্রুট ব্যাগে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে।
সুলতান আহমেদ বলেন তাঁর বাগানে বারি-৪, থাই বানানা ম্যাঙ্গো, আমেরিকান রেড পালমার, কিং অব চাকাপাত, পালমার, বারি-১১, তাইওয়ান গ্রিন, কিংসটোন প্রাইড, কিউজাই, মিয়াজাকি ও থাই বারোমাসি আম আছে। এসব জাতের আমের চারা সরকারি নার্সারিসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করেছেন তিনি।আশা এনজিওর প্রশিক্ষন ও পরামর্শে গড়ে তুলেছি এই বিশাল বাগান।তারা আমাকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করেছেন এবং এখনো করে যাচ্ছেন।আমের বাগান করার জন্য আমার ৭৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি বছর আম বিক্রি হয় প্রায় ১ কোটি টাকা। এতে আমার আয় বছরে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা।আর আমি যদি চাকুরী করতাম তাহলে খেয়ে পড়ে দিন চলে যেত।
আজ আমি ৪০জন লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছি ভালোভাবে পরিবার নিয়ে দিনপাত করছি এটাই আমার বড় সাফল্য। সুলতান আরো বলেন, তাঁর লক্ষ্য একটাই, শুধু মৌসুমের কয়েক মাস নয়, যেন সব সময় মানুষ চাইলে আম খেতে পারেন। দেশে সাধারণত মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত এ চার মাসকে আমের মৌসুম হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে এই বাগান থেকে বছরজুড়েই আম মিলবে। তিনি আরো বলেন সরকার যদি বিদেশে আম পাঠানোর সুব্যবস্থা করে দেন তাহলে ভবিষ্যতে বিদেশে আম পাঠানোর সুদুর সম্ভাবনা রয়েছে।বাগানের কর্মচারীরা বলেন সুলতান আহমেদ খুব ভালো মানুষ আমাদের যা বেতন দেয় তা দিয়ে আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার ভালোভাবে চলে যায়।
আশার আঞ্চলিক ব্যাবস্থাপক সাইফুদ্দিন বলেন আমরা অর্থ ও প্রশিক্ষন পরামর্শ দিয়ে থাকি বাগান মালিকদের।ভালো মানের চারা কখন কোন সার কীটনাশক কত পরিমান দিতে হবে এরকম বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছি আমরা।
নওগাঁ জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, সুলতানের বাগানের আম বিষমুক্ত। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী সুলতান কোনো কীটনাশক ব্যবহার করেননি। অথচ ফলবাগান গুলোয় কৃষকেরা অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করেন। এতে ফলের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়, যা দেহের জন্য ক্ষতিকর।
এ ছাড়া বাগানে প্রচুর পরিমাণে ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে। যাঁরা নিরাপদ আম উৎপাদনের চেষ্টা করছেন, তাঁরা কীটনাশক ব্যবহার না করে ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন।
আরও বলেন, এই বাগানে বেশ কয়েক প্রজাতির আম চাষ করা হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে যখন মৌসুমের আম থাকবে না, তখন এই আমগুলো পাকবে ও বাজারে যাবে। ফলে সে লাভবান হবেন। সুলতানের এ আমবাগানের ফলন দেখে এখন এলাকার অনেকেই আম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।