
বাদী লতিফা বেগম(৫৯) এর ছোট মেয়ে অপহরনকৃত ভিকটিম ফারিহা আফসানা ইমা(১৯), ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের ছাত্রী। ধৃত আসামী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৩৮), পিতা-মৃত মকবুল হোসেন, সাং-মন্ডলসেন, উভয় থানা-মুক্তাগাছা, জেলা-ময়মনসিংহ বাদীর বড় মেয়ের জামাই। ভিকটিমের বোনের সাথে উক্ত বিবাদীর অনুমানিক ৭ (সাত) বছর পূর্বে বিবাহ হয়। সেই সুবাদে বিবাদী ভিকটিমের বাড়ীতে নিয়মিত আসা যাওয়া করতো এবং বিয়ের পর হতে ভিকটিমকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে উত্যক্ত করতো এবং কু-প্রস্তাব দিতো।
কিন্তু ভিকটিম বিবাদীর কূ-প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় বিবাদী গোপনে ভিকটিমের ব্যাক্তিগত মোবাইল থেকে কৌশলে জিমেইল আইডি ও ফেইসবুক আইডির পাসওয়ার্ড নিয়ে নেয় এবং ভিকটিমের মোবাইলে থাকা তার আপত্তিকর কিছু ছবি নিয়ে নেয়। পরবর্তীতে বিবাদী উক্ত ছবি ভিকটিমকে দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ব্ল্যাক মেইল করতে থাকে এবং তার সাথে শারিরীক সম্পর্ক করার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাপ দিতে থাকে। বিবাদীর এরুপ হুমকিতে ভিকটিম বাদী হয়ে মুক্তাগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করে (যার নং-০২ তারিখ-০৪/০৫/২০২৪খ্রিঃ ধারা- পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর ৮(১)/৮(২) ধারা)।
উক্ত মামলা দায়ের করার পর হতে বিবাদী রাগে ক্ষোভে ভিকটিম এবং তার পরিবারের লোকদের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিতে থাকে। বিবাদীর হুমকিতেও ভিকটিম উক্ত মামলা না তুললে বিবাদী রাগে ক্ষোভে গত ইং-০৯/০১/২০২৫ তারিখ সকাল অনুমান ০৮.০০ ঘটিকার সময় ভিকটিমকে নিজবাড়ী হতে ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজে যাওয়ার পথে মুক্তাগাছা থানাধীন লক্ষীখোলা সাকিনন্থ মুন সিনেমা হলের সামনে থেকে তার অজ্ঞাতানামা কয়েকজনের সহযোগিদের সহায়তায় ভিকটিমকে অপহরন করে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে বিবাদী তার ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার হতে ভিকটিমের বড় বোনের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে উক্ত অপহরণের কথা জানিয়ে হুমকি দেয় যে, ভিকটিম কর্তৃক তার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে দায়েরকৃত মামলা না তুললে ভিকটিমকে আর ফেরত দেবে না। ভিকটিমের বড় বোন বিবাদীর উক্ত হুমকির বিষয়টি তার পরিবারের লোকজনদের কাছে জানালে ভিকটিমের মা লতিফা বেগম(৫৯) বাদী হয়ে অফিসার ইনচার্জ, মুক্তাগাছা থানা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করে। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে অফিসার ইনচার্জ, মুক্তাগাছা থানা একটি নিয়মিত মামলা রুজু করে (যার নং-১২ তারিখ-১৫/০১/২০২৫খ্রিঃ, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০০(সংশোধীত-২০২০) এর ৭/৩০ ধারা)। একই সাথে বাদী আপরহণকৃত তার ছোট মেয়েকে ফেরত পাওয়ার জন্য আইনগত সহায়তা চেয়ে অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি), ২ এপিবিএন, বাংলাদেশ পুলিশ বরাবর উক্ত অপহরণ মামলার কপিসহ একটি অভিযোগ করে।
বাদীর উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২ এপিবিএন এর অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি), আলী আহমদ খান মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায় ২ এপিবিএন এর সাইবার ক্রাইম সেল এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সের এলআইসি/সিআইএ সেলের সহায়তায় উক্ত বিবাদীর বর্তমান অবস্থান সনাক্ত করে। একটি অভিযানিক দল ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা পৌরসভার ঢলুয়াবিল তেলের পাম্পের সামনে হতে গ্রেফতার করে। মুক্তাগাছা থানায় সুপোর্দকরে।