নিহত মুন্না ওই গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। নিহতের স্বজনরা জানান, বিকেলের দিকে মুন্না তার ধানি জমি দেখতে সেজামুড়া সীমান্তের কাছে যান। এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কয়েকজন তাকে ধরে নিয়ে যায়।পরে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বাংলাদেশ সীমান্তে ফেলে রেখে চলে যায় তারা।
এসময় বিজিবি সদস্যরা টহলে গেলে তাকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মুন্নার স্ত্রী রত্না বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘সীমান্তের কাছে আমাদের জমিতে সবজি চাষ করা হয়।
বিকেলে আমার স্বামী সেই সবজি ক্ষেত দেখতে যায়। অনেক সময় পার হলেও না আসায় আমি খোঁজাখুঁজি শুরু করি। পরে একজন ফোন দিয়ে জানায় বিএসএফ তাকে ধরে নিয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় আমি ঘটনাটি জানাই, তারপরও তার সন্ধান পাচ্ছিলাম না। অনেক পর আমার স্বামীকে আহত অবস্থায় পাই। বিএসএফ তাকে মারধর করেছে বলে জানায়।’
নিহতের বড় বোন আমেনা খাতুন বলেন, ‘সন্ধ্যায় বিজিবি খবর দিলে ধানক্ষেত থেকে আমার ভাইকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সেখান থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে সে মারা যায়।’
তিনি বলেন, ‘আমার ভাইয়ের এক সন্তান প্রতিবন্ধী। এখন এই পরিবারের দেখাশোনা কে করবে? বিএসএফ আমার ভাইকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ আরাফাত বলেন, ‘হাসপাতাল আনার পর আমরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করি। ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।’
বিজিবির ২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফারাহ মোহাম্মদ ইমতিয়াজ সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটির তদন্ত চলছে। ওই যুবক কী কারণে সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন বা বিএসএফ তাকে ধরেছিল কি না, নাকি অন্য কেউ মেরেছে তা এখনো জানা যায়নি।