1. admin@bdtimes24.live : admin :
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা চাইলেন জামায়াত আমির সাইবার বুলিং ও অপতথ্য রুখতে তারেক রহমান সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ স্বপ্নের ফ্ল্যাটের প্রত্যয়ে স্বপ্ন শহর প্রোপার্টিজের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কানাডায় জমজমাট প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির অ্যালামনাই গেট-টুগেদার স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সিকিউরিটিজের ৫৪তম বোর্ড বৈঠক অনুষ্ঠিত জনতা ব্যাংকের এএলএম কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সাইবার আক্রমণ ঠেকানোর প্রশিক্ষণে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে বুটক্যাম্প সোনার বাংলা গড়ার নামে পরিবেশ বিপর্যয়: সাভারের কামালপুরে বন ও কৃষিজমি গিলে খাচ্ছে তথাকথিত রিসোর্ট বিএনপির ট্যাগ নিয়ে রুমিন ফারহানার ফেসবুক পোস্টে নতুন বার্তা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত: ডেপুটি স্পিকার

শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

সাহেব আলী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশে সময় : মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৫
  • ৪৬৯ বার পঠিত

নওগাঁর মান্দা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাসার সামসুজ্জান এর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অর্থ আত্মসাত, কথায় কথায় শোকজ ,বেতন কর্তন,ভূয়া বিল উত্তোলন,চাকুরীর ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

নওগাঁ জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা মান্দা।আয়তন ৪১৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ১৪টি ইউনিয়নে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯৯টি বে- সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৬টি শিক্ষার হার ৬৫% নিয়ে এগিয়ে চলছে উপজেলাটি।৫আগষ্টের পরেও দুর্নীতিবাজ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কারনে শিক্ষার মান ব্যাহত হচ্ছে বলে অনেকে ধারনা করেছেন। ভুক্তভোগী কালিনগর স্কুলের সাবেক শিক্ষক সেলিম মোর্ত্তজা বলেন শিক্ষা অফিসে কোনো লিখিত অভিযোগ দিলে তিনি রিসিভ কপি দিয়ে গ্রহন করেন না। কারন কোন অভিযোগ তার পছন্দের ব্যক্তির নামে হলে তা আমলে নেন না, আর অভিযোগের কপি পাইনি বলে পরবর্তীতে অস্বীকার করেন । কাঞ্চন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিন চুরি করে প্রধান শিক্ষকের নামে বিক্রয় অভিযোগ সহ অসংখ্য অভিযোগ আমলে না নিয়ে, অভিযোগের কপি লুকিয়ে রেখে, অভিযোগ পাইনি বলে জানায়।

তিনি ২০২২ সালের শুরু থেকে অদ্যাবধি জ্বালানি ও লুব্রিকেন্ট বাবদ বরাদ্দকৃত পিইডিপি-৪ ও রাজস্ব খাতে সমস্ত টাকা ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। অথচ আমরা আজ পর্যন্ত তার নিজস্ব নামে বরাদ্দকৃত কোন মোটরসাইকেল দেখিনি। তিনি অঞঊঙ বা শিক্ষকদের মোটরসাইকেলের পিছনে বসে স্কুল ভিজিট সহ বিভিন্ন স্থানে গমন করেন। তিনি এ কাজে অঞঊঙ বা শিক্ষকদের বাধ্য করেন। তিনি যাতায়াত ভাতা বাবদ ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বরাদ্দকৃত সমস্ত টাকা এবং ২০২৩- ২৪ অর্থবছরের দুই-লক্ষাধিক টাকা উত্তোলন করে আত্নসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে মান্দার সকল শিক্ষক সহ শিক্ষা অফিসের কর্মচারী ও কর্মকর্তারাও অবগত আছেন।

তার এরূপ কর্মকান্ড নিয়ে কোন সচেতন শিক্ষক কথা বললে তাদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং প্রতিবাদ করলে তার রোষানলে পড়েন। অনুরুপভাবে তার কাছে আমার পাওনা ৭০,০০০/- টাকা চাওয়ায় রোষানলে পড়ে যাই। যেকারনে আমাকে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ১ দিনের বেতন কর্তন, মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে থানায় জিডি, ও ৭০,০০০/- টাকা আত্মসাৎ করে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বাধ্যতামুলক অবসর প্রদান করেন। অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ ফজলে খোদাকে বেতন অবনমিতকরণ ও বদলী। পারশিমুলিয়া সপ্রাবির সহকারী শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে বেতন অবনমিতকরণ, চককার্ত্তিক সপ্রাবির প্রধান শিক্ষক মোছাঃ ফরিদা পারভীনকে ও নহলা কালুপাড়া সপ্রাবির সহকারী শিক্ষক জনাব মোঃ মখলেছুর রহমানকে শাস্তিমুলক বদলীসহ অনেককে বিভিন্ন ধরণের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।আমার প্রতি অবিচার হয়েছে মর্মে আমি অন্য অফিসার দ্বারা পুন: তদন্ত সাপেক্ষে চাকুরী ফেরতের দাবী করছি।এদিকে বর্তমান কালিনগর স্কুলের শিক্ষক মোঃ মখলেছুর রহমান বলেন আমাকে ৭ মাস সাসপেন্ড করে রাখা হয়েছিল।

পারশিমুলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আয়নাল হক বলেন,৯৫নং পারশিমুলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চায়না রানী অত্র বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ২,৬১,০০০/- (দুই লক্ষ একষট্টি হাজার) টাকা আত্মসাৎ করিয়াছেন। ভুলভাল বুঝিয়ে স্যারের কথা বলে তিনটি ব্লাংক চেক স্বাক্ষর করিয়া নেয়। ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা। ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা। ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা। পূর্বের কমিটির রেখে যাওয়া ৪১,০০০/- (এক চল্লিশ হাজার) টাকা। সর্বমোট ২,৬১,০০০/- (দুই লক্ষ একষট্টি হাজার) টাকা আত্মসাৎ করিয়াছেন। গত ০৬/০৯/২০২২ইং তারিখে ম্যানেজিং কমিটির মিটিংয়ে হিসাব চাহিলে প্রধান শিক্ষক শিক্ষা অফিসারকে হিসাব দিবেন বলে জানান। ।এছাড়াও ২০২২-২০২৩ সাল পর্যন্ত পারশিমুলিয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রুটিন ও ক্ষুদ্র মেরামতের কাজ না করে প্রায় ২৬০০০০/- দূর্নীতি মাধ্যমে উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব আবুল বাসার শামসুজ্জামান সহযোগিতায় সম্পূর্ণ টাকা মেরে দেয়। এবিষয়ে ডিপিও কে অবগত করলেও তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। কারন জেলা শিক্ষা অফিসার নিজেও উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবুল বাসার শামসুজ্জামান বিভিন্ন অপকর্মের সহযোগিতা করে থাকেন।
উক্ত বিষয়ে সরজমিনে তদন্তের মাধ্যমে কোমলমতি নিষ্পাপ শিশুদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরৎ এবং বদলি সহ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দাবী জানাছি। পাশাপাশি মান্দা উপজেলার অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তদন্ত করিলে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক জানান. তিনি অফিসে সবসময় উগ্রমেজাজে থাকেন এবং অকারণে চিৎকার, চেঁচামেচিসহ অশালীন আচরণ করেন। একারণে তার অফিস কক্ষে প্রয়োজন হলেও অফিস স্টাফসহ কোন শিক্ষকই (তার সিন্ডিকেটের অর্ন্তভুক্ত শিক্ষকগণ ব্যতীত) যেতে চান না।

অনিয়মের কথা বললে বা তার কথামত না চললে অযথা ভুল ধরিয়ে শোকজ বেতন কর্তন বিভাগীয় মামলা বকাবকি সহ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হয়।এর আগে পাবনা চাটমোটর থাকা কালিন এ ধরনের কার্যকলাপের কারনে সেখানে লাঞ্চিত ও মার খাওয়ার মত ঘটনা ঘটে যা দেনিক ইনকিলাব পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এ রকম হাজারো নির্যাতন করেছে এই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাসার সামসুজ্জান এ নিয়েও চরম আতংক বিরাজ করছে শিক্ষক মহলে ।আমরা এরকম দুর্নীতিবাজ নির্যাতনকারী অফিসারের বদলী ও শাস্তির দাবী করছি।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোসা. বুলবুলির স্বামী আলম বলেন, মান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরুচি রানী বিরুদ্ধে টিন চুরি ও বিক্রয় করে টাকা আত্মসাৎ অভিযোগ করেন অত্র বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোসা. বুলবুলি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোবারক হোসেন ও অত্র ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জিন্নাতুন নেসা পৃথকভাবে তিনটি অভিযোগ করেন। মান্দা উপজেলার উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবুল বাসার শামসুজ্জামান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে যোগসাজসে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রধান শিক্ষকের নামে বিভাগীয় মামলা না করে বাদী মোসা. বুলবুলি খাতুনের নামে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়।ঘটনা সত্য, তবে এ বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে কিছু বলতে চাইনা।সামনে মামলার রায় আছে রায়ের পরে বলব।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সত্যতা স্বীকার করে বলেন আমাদের হাত পা বাধা তবে এধরনের অফিসারদের শাস্তি হওয়া উচিৎ সেটা আমি হই বা অন্য কেউ।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাসার সামসুজ্জান রেগে গিয়ে বলেন আপনারা তদন্ত করেন, আমার বিরুদ্ধে শিক্ষকরা যেসব অভিযোগ করেছেন তার সবগুলোই মিথ্যা। আমি কোন প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে জড়িত নই।
নওগাঁ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মান্দা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অনিয়মের বিষয় গুলো কিছু তদন্ত হয়েছে কিছু চলমান রয়েছে। নিজের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন আপনারা তদন্ত করে দেখেন।

Facebook Comments Box

এই জাতীয় আরও খবর