
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের থানা পাড়ার নিজ বাসভবনে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। ফারুকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার বাড়িতে জেলার বিভিন্ন স্তরের মানুষ সমবেদনা জানতে জড়ো হন।
বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে রাষ্ট্রীয় সন্মাননা ছাড়াই টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুকের লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার বাদ আসর টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থান জামে মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পাশে কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন হয়। জানাজা নামাজের আগে বক্তব্য দেন সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ও তার পরিবারের সদস্যরা।লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ফারুক ভাই আমাদের একাত্তরের সঙ্গী। তার সঙ্গে স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। আমরা তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। এ ছাড়াও পরিবারের পক্ষে থেকে টাঙ্গাইলবাসীর কাছে ফারুক ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।এ সময় জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিটের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মরহুমের ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ জানান, একুশে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে তিনি কথা বলতে পারছিলেন না। পরে শনিবার সকালে তার কোন সাড়া শব্দ না পেলে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফজলুর রহমান খান ফারুক পাকিস্তান গণপরিষদ সদস্য এবং টাঙ্গাইল-৭ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার তাকে ২০২১ সালে একুশে পদক প্রদান করেন। ফজলুর রহমান ফারুক ১২ অক্টোবর ১৯৪৪ সালে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ওয়ার্শী ইউনিয়নের কহেলা গ্রামে জন্মগ্রহণ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে মাষ্টার্স পাস করেন। তার স্ত্রী মৃত সুরাইয়া বেগম। তিনি এক পুত্র এবং এক কন্যা সন্তানের জনক। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে টাঙ্গাইলের একটি মামলায় সাবেক গনপরিষদ সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান খান ফারুককে আসামী করা হয়।