
সাধারণত খেলা শেষে অধিনায়ক একাই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কথা বলেন। কিন্তু শুক্রবার সে চিরায়ত ধারা ভাঙলেন তামিম ইকবাল। দক্ষিণ আফ্রিকান সঞ্চালক অ্যাকারম্যান যখন ফাইনাল শেষে ফরচুন বরিশাল অধিনায়ককে কথা বলতে ডাকেন, তামিম ডেকে সঙ্গে নেন দুই সিনিয়র ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে।
কেন তাদের নিয়ে একসঙ্গে সঞ্চালকের সাথে কথা বলতে যাওয়া? অফিসিয়াল প্রেস বক্সে কথা বলতে এসে বরিশাল অধিনায়ক তার ব্যাখ্যায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ কথা জানালেন, বলে দিলেন-বিপিএল ট্রফিটি মুশফিক আর রিয়াদ ভাইকে উৎসর্গ করলাম।
তামিম বলেন, ‘অবশ্যই যে কোনো ট্রফি ফ্যান্টাসটিক। কিন্তু আমাদের দলে এমন কয়েকজন ছিলো, কিছু তরুণ খেলোয়াড় মিরাজ বলেন বা সৌম্য বলেন। দুইজন সিনিয়র ক্রিকেটার রিয়াদ ভাই, মুশফিক। তারা দেশকে অনেকদিন ধরে সেবা দিচ্ছে। কিন্তু ওরা এই ট্রফিটা এখনো পায়নি। আমার নিজেরই একটা ইচ্ছা ছিলো আল্লাহ যদি আমাদের দেয় (ট্রফি), তাহলে এই ট্রফি তাদের উৎসর্গ করব।’
তামিমের আরও বিশদ ব্যাখ্যায় গিয়ে বলেন, ‘আমি জানি মিরাজ, সৌম্য, তাইজুল তাদের সামনে অনেক সময় আছে অনেক ট্রফি জেতার। আমি জানি না রিয়াদ ভাই ও মুশফিক ভাই (কতদিন খেলবে)। যেভাবে তারা পারফর্ম করেছেন হয়তো চালিয়ে যাবে। তবে অন্যদের মতন এত নয়। এই কারণে প্রেজেন্টেশনের সময় ওদের নিয়ে গিয়েছি। কারণ তারা জেতার কাছাকাছি আগেও গিয়েছিল।’
নিজের আলাদা কোনো টার্গেট বা দেখিয়ে দেওয়ার বিষয়টি মাথায় ছিল কিনা? তামিম বলেন, ‘ব্যক্তিগত কোনো আবেগ ছিলো না। হয়তো মাঠের মধ্যে চলে আসতে পারে। তবে দেখিয়ে দেওয়া বা এমন কিছু মাথায় নিয়ে খেললে এতদূর আসতে পারতাম না। ভালো করতে চেয়েছি। হয়তো সেরা শেপে ছিলাম না, কিন্তু অবদান রাখতে চেয়েছি।
কাগজে কলমে কুমিল্লা আর রংপুর রাইডার্সকে ভাবা হয়েছিল ফরচুন বরিশালের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ভালো দল। কিন্তু মাঠে সে হিসেব ভুল প্রমাণ করে চ্যাম্পিয়ন হলো তামিম ইকবালের ফরচুন বরিশাল। এ সাফল্যের মূলে কী?
তুলনামূলক ভালো লাইনআপ নিয়েও রংপুর রাইডার্স ছিটকে পড়লো কোয়ালিফায়ার থেকে। আর কুমিল্লা অনেকদূর এসেও পারলো না শেষ রক্ষা করতে। পেছন থেকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে উঠে বরিশাল হলো চ্যাম্পিয়ন ।
তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, সৌম্য, মিরাজ, সাইফউদ্দীন ও তাইজুলদের এ সাফল্যের পেছনে মূল রহস্য কী? অধিনায়ক তামিম ইকবালের ব্যাখ্যা শুনে হয়ত খানিকটা অবাকই হবেন। তামিমের ব্যাখ্যা, ‘আমাকে যদি বলা হয়, বরিশালের শিরোপা জেতার একটি কারণ চিহ্নিত করতে, তাহলে আমি বলবো, আসলে আমরা দলের ভেতরে এক সুন্দর ও চমৎকার পরিবেশ তৈরি করেছিলাম। দলের ভেতরে সম্প্রীতি, সংহতি একতা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য অনেক বেশি ছিল। যা ভালো খেলতে পুরো দলকে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেছে।’
এর বাইরে মুশফিকুর রহিমের আলাদা প্রশংসা তামিম ইকবালের মুখে। তার সোজাসাপ্টা কথা, ‘মুশফিক মাঠটা দেখেছে। আমি বাইরের দিকটা দেখেছি।আমিই মুশফিককে অনুরোধ করেছি-দোস্ত, তুই মাঠটা দেখ। আমি বাইরের বিষয়গুলো দেখি।
শুরুর দিকে বিদেশি প্লেয়ারদের সাথে যোগাযোগ করা আসবে-যাবে এবং কার জায়গায় কে খেলবে এসব ঠিক করতে হয়েছে। এসব করে আর মাঠের কাজ করা সহজ ছিল না। তাই মুশফিকের দ্বারস্থ হই। মুশফিক আমাকে দারুণ সাপোর্ট দিয়েছে’-অবলীলায় বলে দিলেন তামিম ইকবাল।