1. admin@bdtimes24.live : admin :
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা চাইলেন জামায়াত আমির সাইবার বুলিং ও অপতথ্য রুখতে তারেক রহমান সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ স্বপ্নের ফ্ল্যাটের প্রত্যয়ে স্বপ্ন শহর প্রোপার্টিজের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কানাডায় জমজমাট প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির অ্যালামনাই গেট-টুগেদার স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সিকিউরিটিজের ৫৪তম বোর্ড বৈঠক অনুষ্ঠিত জনতা ব্যাংকের এএলএম কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সাইবার আক্রমণ ঠেকানোর প্রশিক্ষণে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে বুটক্যাম্প সোনার বাংলা গড়ার নামে পরিবেশ বিপর্যয়: সাভারের কামালপুরে বন ও কৃষিজমি গিলে খাচ্ছে তথাকথিত রিসোর্ট বিএনপির ট্যাগ নিয়ে রুমিন ফারহানার ফেসবুক পোস্টে নতুন বার্তা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত: ডেপুটি স্পিকার

মুকুল থেকে ফল সংগ্রহ-বৈজ্ঞানিক পরিচর্যায় নিশ্চিত বেশি ফলন

আব্দুর রশিদ:
  • প্রকাশে সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ২৫০ বার পঠিত

বাংলাদেশের আমের রাজধানী বলা হয় রাজশাহীকে। পদ্মা তীরের উর্বর দোঁআশ মাটি, কম আর্দ্রতা ও দীর্ঘ রৌদ্রোজ্জ্বল সময়-সব মিলিয়ে এ অঞ্চল আম উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ল্যাংড়া, ফজলি, হিমসাগর ও আম্রপালিসহ বিভিন্ন জাতের আম এখান থেকে দেশ-বিদেশে সরবরাহ হয়। তবে মুকুল আসার পর সঠিক পরিচর্যা না হলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায় না। তাই মুকুল থেকে ফল সংগ্রহ পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই অধিক ফলনের চাবিকাঠি।

মুকুল আসার পর প্রাথমিক পরিচর্যা

মুকুল দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাগান পরিষ্কার রাখা জরুরি। আগাছা পরিষ্কার করে গাছের নিচে আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। শুকনো ও রোগাক্রান্ত ডাল ছাঁটাই করলে রোগের ঝুঁকি কমে। রাজশাহীর আবহাওয়া তুলনামূলক শুষ্ক হওয়ায় মাটির আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়-তাই হালকা সেচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সেচ ব্যবস্থাপনা: রাজশাহীর জন্য বিশেষ নির্দেশনা
রাজশাহীতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় সেচ ব্যবস্থাপনা একটু বাড়তি গুরুত্ব পায়।
মুকুল অবস্থায়: ১২–১৫ দিন পরপর হালকা সেচ
ফল মার্বেল আকার হলে: ৭–১০ দিন পরপর
ফল বড় হওয়ার সময়: ৫–৭ দিন পরপর
তবে জলাবদ্ধতা যেন না হয়। নালা বা ড্রিপ পদ্ধতিতে সেচ দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়। গাছের গোড়ায় খড় বা মালচিং ব্যবহার করলে মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখা সম্ভব।

পোকামাকড় ও রোগব্যবস্থাপনা
রাজশাহীতে বিশেষ করে হপার, থ্রিপস ও মিলিবাগের আক্রমণ বেশি দেখা যায়। এছাড়া পাউডারি মিলডিউ ও অ্যানথ্রাকনোজ রোগও ক্ষতি করে।

স্প্রে ক্যালেন্ডার (রাজশাহী অঞ্চল)
প্রথম স্প্রে (মুকুল বের হওয়ার পরপরই):
ইমিডাক্লোপ্রিড ০.৫ মিলি/লিটার পানি
দ্বিতীয় স্প্রে (১০ দিন পর):
ম্যানকোজেব ২ গ্রাম/লিটার
তৃতীয় স্প্রে (ফল সেট হওয়ার পর):
সাইপারমেথ্রিন ১ মিলি/লিটার
চতুর্থ স্প্রে (১৫ দিন পর):
কার্বেনডাজিম ১ গ্রাম/লিটার

* স্প্রে সবসময় বিকালে করতে হবে।
* একই ওষুধ বারবার ব্যবহার না করে পরিবর্তন করতে হবে।
* ফুলে মৌমাছি থাকলে কীটনাশক প্রয়োগ এড়িয়ে চলা উচিত।

সার ব্যবস্থাপনা

রাজশাহীর মাটিতে জৈব সারের ব্যবহার বেশি কার্যকর। প্রতি পূর্ণবয়স্ক গাছে—
জৈব সার: ২০–২৫ কেজি
ইউরিয়া: ১.৫ কেজি
টিএসপি: ৫০০–৭০০ গ্রাম
এমওপি: ৫০০–৭০০ গ্রাম
সার প্রয়োগের সময় গাছের গোড়া থেকে ২–৩ ফুট দূরে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে বোরন (১ গ্রাম/লিটার) স্প্রে করলে ফল ঝরা কমে ও ফল ধারণ বাড়ে।
আবহাওয়াজনিত সতর্কতা
রাজশাহীতে গরম ও খরা বেশি হয়। তাই—
✔ মালচিং ব্যবহার করুন
✔ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন
✔ ঝড়ের আগেই প্রয়োজনীয় স্প্রে সম্পন্ন করুন
✔ অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার প্রয়োগ এড়িয়ে চলুন

সম্ভাব্য ফলন

সঠিক পরিচর্যা করলে একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ থেকে ২০০–৫০০টি পর্যন্ত আম পাওয়া সম্ভব। বাণিজ্যিক বাগানে প্রতি বিঘায় ২–৪ টন পর্যন্ত ফলন অর্জন করা যায়।
রাজশাহীর জলবায়ু ও মাটির গুণগত মান আমচাষের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। তবে মুকুলের সময় সামান্য অবহেলাই বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই পরিকল্পিত সেচ, সুষম সার ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করলেই মৌসুম শেষে সোনালি আমে ভরে উঠবে রাজশাহীর বাগান।

লেখক-
আব্দুর রশিদ

Facebook Comments Box

এই জাতীয় আরও খবর