{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় সহদর দুই ভাইসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের চারজন নিহত হয়েছেন। গত বুধবার (১০ এপ্রিল) মালয়েশিয়ায় ঈদের দিন পেরাক রাজ্যে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগর উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের এক্তারপুর গ্রামের করিম সর্দারের দুই ছেলে মো. আব্দুল্লাহ (২৫) ও হাফেজ আরিফুল ইসলাম সোহেল (২৭) এবং একই এলাকার মো. শাহাবুদ্দির মিয়ার ছেলে মো. সোহেল (২৫), মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোহাম্মদ আশকর আলী (৪০)।
একতারপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ঈদ আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের একতারপুর গ্রামের করিম সর্দারের ঘরে। উপার্জনক্ষম দুই ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক করিম কিছু বুঝে উঠতে পারছেন না। তিনি বলেন, তার তিন ছেলে মালয়েশিয়ায় থাকেন। তাদেরকে বিদেশে পাঠাতে গিয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকার মত ঋণগ্রস্থ হয়েছেন। এমন সময় দুই ছেলের একসঙ্গে মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।
তিনি আরো বলেন, আমি আমার খরচে সন্তানদের লাশ দেশে আনতে অক্ষম। তাই সরকারের প্রতি দাবি জানাই যাতে সরকারি খরচে দ্রুত তাদের লাশ দেশে আনা হয়।
এদিকে বুকের ধন ছেলেকে হারিয়ে শোকে পাথর মা আলিয়া খাতুন বলেন, আমার ছেলে কয়েকদিন আগেও আমার সঙ্গে কথা বলেছে। সে তখন ঈদে কাপড় কিনেছি কিনা তা জানতে চেয়েছে। বোনদের বাড়িতে আসার দাওয়াত দেয়া হয়েছে কিনা তাও জানতে চেয়েছে। অবাক লাগছে ঈদের দিন আমার সন্তানের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। আমি আমার সন্তানকে দ্রুত আমার কাছে ফিরে পেতে চাই। সরকার যেন দ্রুত আমার ছেলেকে দেশে আনার ব্যবস্থা করে আমি এই দাবি জানাচ্ছি।
স্বজনরা জানান, মালয়েশিয়ায় ঈদের নামাজ শেষে করিম মিয়ার ছেলে মো. আব্দুল্লাহ ও আরিফুল ইসলাম সোহেল, একই এলাকার মো. শাহাবুদ্দির মিয়ার ছেলে মো. সোহেল ও মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোহাম্মদ আশকর আলীসহ কয়েকজন মিলে ঘুরতে বেড়িয়েছিলেন। তারা ক্যামেরুন থেকে গাড়িতে করে কুয়ালালমপুরে যাচ্ছিলেন। দুপুরের দিকে পেরাক রাজ্যের কাম্পার এলাকার এক্সপ্রেসওয়েতে আকস্মিক নিয়ন্ত্রণ হারায় তাদের বহন করা গাড়িটি। মূহুর্তেই পেছনে থাকা লরির ধাক্কায় দুমড়ে মুচড়ে যায় সেটি। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনজন।
পরে গুরুতর আহত মোহাম্মদ সোহেল বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) স্থানীয় তেলুক ইন্তান হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন হারানোর বেদনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাদের আপন জনেরা।