
চিরচেনা যানজটের শহর ময়মনসিংহ। প্রতি ঈদে নগরের গুরুত্বপূর্র্ণ রাস্তাগুলোতে যানজট লেগেই থাকে। এবারও ট্রাফিক অময়মনসিংহে ট্রাফিক অব্যবস্থাপনায় ঈদে যানজটের আশঙ্কা ঈদে যানজটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ময়মনসিংহের সচেতন মহল। শুধু ঈদে নয়,এখনোও ১০ বা ২০ মিনিটের পথ পারি দিতে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা সময় লেগে যায় প্রায়ই। ব্রিজ মোড়, চরপাড়া ,গাঙ্গিনাপাড়,নতুন বাজার,দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকায় লেগেই থাকে যানজট।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দিঘারকান্দা বাইপাসমোড়ের এক পাশ দিয়ে ফুলবাড়িয়া, মুক্তাগাছা, টাঙ্গাইল, মধুপুর, জামালপুর যাওয়ার পথ। অন্য পাশের সড়কটি দিয়ে নেত্রকোণা, শেরপুর,কিশোরগঞ্জ জেলা সহ হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া আরোও কয়েকটি উপজেলায় যাওয়া যায়। গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়ে মূলসড়কের দুই পাশে যাত্রীর জন্য অপেক্ষায় থাকে বাস,রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাহেন্দ্রার মতো যানবাহন। ফলে এখানে প্রায়ই যানজট লেগেই থাকে। প্রতিদিন এমন দৃশ্য নগরীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যেমন- নগরীর জিলা স্কুল মোড়, নতুন বাজার মোড়, টাউন হল মোড়, কাঁচিঝুলি মোড়, গাঙ্গীনাপাড়, র্যালির মোড়, পাটগুদাম ব্রীজ মোড়েও চোখে পড়বে। প্রতিদিনই এসব মোড়ে দেখা যায় যানবাহনের বিশৃঙ্খল অস্থা। অনেক সময় হেঁটে চলার পথে যেতেও বেগ পেতে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয় দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশকেও।
নগরীর মাসকান্দা বাসট্যান্ড এলাকায় সড়কের দুইপাশেই অসংখ্য রিকশা ও অটোরিকশা থামিয়ে রেখে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানামা চলে। মঙ্গলবার সড়কের মাঝখানে সৌখিন নামের বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী উঠাচ্ছিলেন চালক। মাঝ রাস্তা ব্লক করে দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, এটা আমাদের স্ট্যান্ড আমরাতো যাত্রী উঠাবোই। এ সময় মাসকান্দায় কোন ট্রাফিক পুলিশ চোখে পরে নাই।
নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা গাঙ্গিনাপাড় মোড়ের দুই পাশে সড়কের প্রায় অর্ধেক অংশজুড়ে ইজিবাইক, রিকশা ও অটোরিকশা রাখা থাকে। চালকরা যাত্রী ওঠাতে ব্যস্ত। দুর্গাবাড়ী মোড়, প্রেসক্লাব ও হকার্স মার্কেটের সামনে বেশির ভাগ সময়ই নানা যানবাহন থামিয়ে রেখে জনগনের দূর্ভোগ সৃষ্টি করে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নগরীর ব্যস্ততম পাটগুদাম ব্রীজমোড় এলাকায় ইমাম,সোনার বাংলা,শ্যামলী বাংলা,শাহজালাল সহ বিভিন্ন বাস রাস্তার প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে যাত্রী তুলছে। বাসের পিছনে যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছে রিকশা ও অটোরিকশা সিএনজি চালিত অটোরিকশা । সেখানেই কথা হয় বিল্লাল নামের এক বাসযাত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, এই মোড়ে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে সবাই যাত্রী তোলে।
ফলে যানজটে পড়লে মোড় পার হতে ১ থেকে ২ ঘন্টা সময় লেগে যায়। সবচেয়ে বেশি বিশৃঙ্খলা দেখা যায় নগরীর চড়পাড়া মোড়ে এখানে লেগেই থাকে যানযট। রাস্তার দুই পাশেই যানবাহন ঠাসা পরে থাকে সব সময় হেঁটে চলাও কঠিন। কথা হয় মুক্তাগাছা থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কালামের সাথে তিনি জানান,কয়েকদিন দরে শরীল টা ভালো যা”েছ না দুপুরে বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছি এখন বিকেল ৪ টা বাজে যানজটে বসে আছি ডাক্তারের কাছে সিরিয়াল ছিল তিনটায়। কি করবো বুঝতে পারছি না।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (মসিক) কর্তৃপক্ষ জানায়, নগরীর নিবন্ধিত অটোরিকশা ১২ হাজার। কিš‘ লাইসেন্স বিহীন চলে আরো ২০ থেকে ৩০ হাজার। নগরীতে অধিকাংশ মোড়ে এসব যানবাহনের অবস্থারেনর শৃঙ্খলা নেই। সারিবদ্ধভাবে রাখার বিষয়টিও দেখভাল করেন না কেউ।
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সাধারন সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, চালকরা বেপরোয়াভাবে সড়কে যানবাহন চালানোর ফলে এসব দূর্ঘটনা ঘটে । পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যর্থ। নগরীতে নিবন্ধিত লাইসেন্স ১২ হাজার থাকলেও চলাচলকারী এসব যানবাহনের সংখ্যা অন্তত ৪০ হাজার। চালকদের মধ্যে আইন অমান্য করার প্রবণতাও রয়েছে। আবার এগুলো নিয়ন্ত্রণে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশেরও গাফিলতি রয়েছে।
সমাজ রুপান্তর ময়মনসিংহের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন,পুলিশ যতদিন দ্বায়ীত্ব নিয়ে কাজ না করবে ততদিন শুধু যানজট নয় সমাজে অপরাধ বেড়েই যাবে। আমি মনে করি ঈদে যদি তারা সঠিক ভাবে দ্বায়িত্ব পালন না করে তাহলে যানজট তো হবেই পাশাপাশি চুরি ,ডাকাতি ,ছিনতাই সহ নানা ধরনের অপরাধ ঘটবে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) আবু নাসের মোহাম্মদ জহির বলেন, তিন চাকার যানবাহনের চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন বিষয়ে ধারণা কম। এ ছাড়া তারা যাত্রী ওঠানোর প্রতিযোগিতায় থাকে। তাই মোড়ে মোড়ে বিশৃঙ্খলা হয়। যানজট যেন না হয় আমরা সবসময় সে চেষ্টাই করে যাচ্ছি।