
নওগাঁ সদর উপজেলার হাপানিয়া ইউনিয়নের শালুকা গ্রামের বাসিন্দা বেলাল হোসেন। ছোট বেলা থেকে অনেক কষ্টে বড় হয়েছেন তিনি । বাবা ৭ বছর বয়সে বাসা থেকে বের করে দেন। শুরু করেন আইসক্রিম বিক্রি। বড় হয়ে ভ্যান চালা শুরু করেন।ভ্যান হারিয়ে আছেন অনেক কষ্টে।
বেলালের বাবা আহসান মাতা মৃত বেগম খাতুন তাদের ৬ ছেলে মেয়ে।তাদের মধ্যে বেলালেই ছিল বড়। খুব অভাবে চলতো তাদের সংসার।ছিলনা থাকার কোন নিজস্ব জায়গা। বেলাল বলেন সংসার চালাতে না পেরে অভাবের তাড়নায় বাবা ছোট বেলায় ছেলেদের বাড়ী থেকে বের করে দিয়ে বলেন তোমরা নিজেরা ইনকাম করে খাও আমি আর সংসারের বোঝা টানতে পারছি না।সেই থেকে শুরু করেন আইসক্রিম বিক্রি। দিনে আইসক্রিম বিক্রি করেন আর রাতে ফুটপাতে ঘুমান। এভাবে ২২ বছর কষ্ট করে কিছু টাকা জমিয়ে রাখেন। ২৩ বছর বয়সে করেন বিবাহ থাকেন অন্যের জায়গায় ঝুপরি ঘরে। তার ঘরে এখন প্রতিবন্ধিসহ ২ ছেলে।বিয়ের পরে জমানো টাকা ও লোন নিয়ে অনেক কষ্টে একটি ভ্যান কিনে সংসার চালাতে থাকেন। কিন্তু হঠাৎ একদিন সেই ভ্যান মসজিদেও পাশে রেখে নামাজ পড়তে যান।সেই সুযোগে চোরেরা তালা ভেঙে ভ্যানটি চুরি করে নিয়ে যায়।
এখন তিনি কিভাবে অর্থ উপার্জন করবেন, কিভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছেন। আপাতত অন্যের ভ্যান ভাড়া নিয়ে চালাতে হচ্ছে। এতে যা আয় হচ্ছে, তা থেকে মালিকের ভাড়া দিয়ে সংসার খরচ ও ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি দিতে পারছেন না তিনি। একই গ্রামের রফিকুল ইলাম বলেন বেলাল খুব সৎ ছেলে ভ্যান হারিয়ে বেচারা খুব বিপদে আছে এমনিতেই প্রতিবন্ধি ছেলের জ¦ালা গায়ে কাপড় রাখতে চায়না অন্যদিকে নেই ভ্যান, কোন বিবেক বান লোক যদি এগিয়ে আসতো তাহলে প্রতিবন্ধির বাবা বেলালের অনেক উপকার হতো।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আঃ মমিন বলেন বেলাল একজন প্রতিবন্ধির অসহায় বাবা।এই অসহায় ব্যক্তির পাশে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিৎ। একই ইউনিয়নের মেম্বার ফিরোজ হোসেন বলেন , বেলাল নিয়মত নামাজ পড়েন এলাকার সবাই জানেন। ঘরে তার একাট প্রতিবন্ধি ছেলে আছে সে খুবই অসহায় একজন মানুষ। ছোটবেলা থেকেই কষ্ট করে বড় হয়েছেন। তার চলার পথে ভ্যানটিই ছিল সম্বল, সেটাও চুরি হয়ে যাওয়ায় পথে বসেছেন। তারা স্থানীয়ভাবে যতটুকু পারেন, সহযোগিতা করেন। তবে একটি ভ্যান পেলে লোকটির পাশাপাশি সংসারটিও বেঁচে