1. admin@bdtimes24.live : admin :
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা চাইলেন জামায়াত আমির সাইবার বুলিং ও অপতথ্য রুখতে তারেক রহমান সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ স্বপ্নের ফ্ল্যাটের প্রত্যয়ে স্বপ্ন শহর প্রোপার্টিজের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কানাডায় জমজমাট প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির অ্যালামনাই গেট-টুগেদার স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সিকিউরিটিজের ৫৪তম বোর্ড বৈঠক অনুষ্ঠিত জনতা ব্যাংকের এএলএম কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সাইবার আক্রমণ ঠেকানোর প্রশিক্ষণে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে বুটক্যাম্প সোনার বাংলা গড়ার নামে পরিবেশ বিপর্যয়: সাভারের কামালপুরে বন ও কৃষিজমি গিলে খাচ্ছে তথাকথিত রিসোর্ট বিএনপির ট্যাগ নিয়ে রুমিন ফারহানার ফেসবুক পোস্টে নতুন বার্তা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত: ডেপুটি স্পিকার

বসন্তে গাছে দুলছে নান্দনিক সজনে ফুল

এস,এম শাহাদৎ হোসাইন, রংপুরঃ
  • প্রকাশে সময় : সোমবার, ৪ মার্চ, ২০২৪
  • ৩২০ বার পঠিত

শ্বেতশুভ্র পাপড়ির মাঝে গ্রামীণ নববধূর মূল্যবান অলংকার নাক ফুলের মতোই স্বর্ণালী মহামূল্যবান শোভা। শুভ্র পরাগদন্ডের শেষ প্রান্তে স্বর্ণালী সৌন্দর্যের আবরণে পরাগধানী। যেটিকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় বলা হয়ে থাকে পুংকেশর। গর্ভকেশর, বৃতি, পু®পাক্ষ একটি আদর্শ ফুলের সকল গুণের সঙ্গে মনমুগ্ধকর সৌরভও রয়েছে এই ফুলের। যে সৌরভ সন্ধ্যার পর গাছের নিচে দাঁড়িয়ে সৌন্দর্য উপভোগের মনবৃত্তি না থাকলে সচরাচর ধরা দেয় না।

আর এ কারণেই হয়তো দেশের কৃষিতে অপ্রচলিত সবজির তালিকায় নাম উঠা সজিনা ফুলের সৌরভ হয়তো কবি-সাহিত্যিকদের মনেও খুব একটা জাগরণ তৈরি করতে পারেনি। তবে বর্তমান নগরীর সজনে ফুলের সৌন্দর্য দেখলে হয়তো প্রকৃতির কবি হিসেবে খ্যাত জীবনানন্দ দাশ বসন্তে কবিতার মালা গাঁথতেন সজনে ফুলের মুগ্ধতা ছড়ানো সৌরভ দিয়েই! সজনে ফুল দেশের গ্রামীণ সৌন্দর্য ও পুষ্টির অন্যতম অনুসঙ্গ হলেও কবি-সাহিত্যিকরা খুব বেশি এ ফুল কিংবা গাছ নিয়ে কথা বলেননি। তবে বিস্তর আবেদন না পাওয়া গেলেও বাংলা সাহিত্যে প্রকৃতির কবি কবি জীবনানন্দ দাশের বাতাসে ধানের শব্দ শুনিয়াছি কবিতায় সজনে ফুলের কথা পাওয়া যায়।

যেখানে তিনি বলেছেন, আনারস বন; ঘাস আমি দেখিয়াছি; দেখেছি সজনে ফুল চুপে চুপে পড়িতেছে ঝরে। তার এ কবিতায় সকলকে মনে করিয়ে দেয় প্রিয় শ্যামল বাংলার প্রকৃতিতে ফালগুনে গাছে গাছে দুলছে নান্দনিক সজনে ফুল। আবার ঝরে পড়ে নিজের ছায়াতল সাজিয়ে তুলছে। তবে সজনের মায়াবী সৌন্দর্যের বন্দনা করতে আগামী দিনের কবিদের অপেক্ষার প্রহর হয়তো গুনেছেন তার কবি মন! বসন্তের শুরুতেই নগরীর সজনের গাছ ফুলে ফুলে ভরে গেছে। থোকায়-থোকায় ঝুলছে কোটি কোটি ফুল। গাছে গাছে ফুলের পরিমাণ এতোটাই বেশি যে গাছের পাতা পর্যন্ত দেখার উপায় নেয়। অনেক গাছ ফুলের ভারে নুয়ে পড়েছে। কোনো কোনো গাছের ডাল ফুলের ভারে ভেঙেও পড়েছে।

কেউ কেউ অতিরিক্ত ফুলের ভারে যেন গাছটিই না পড়ে যায়, এ শঙ্কায় কিছু ডাল ছেঁটে দিয়েছেন। কেউ দিয়েছেন বাঁশের ঠেকা (সাপোর্ট) দিয়েছেন। আর এ অতিভারে বিপর্যস্ত গাছের ফুলে ফুলে যেন আর্শীবাদ হয়ে ভ্রমরের আগমন। সঙ্গে উপকারী অন্য পোকারাও রয়েছে। ভ্রমর ও মৌমাছি সংগ্রহ করছে মধু। তাদের যখন মধু সংগ্রহে ব্যস্ততা, তখন পরাগায়ণ করে ফুল থেকে পরিপূর্ণ সজনে ডাটায় পরিণত হওয়ার সংগ্রাম চলছে ফুলেদের মাঝে। কারণ প্রতি মুহূর্তেই ঝরছে ফুল। ঝরেপড়া এ ফুলগুলোর মূল্যহীন গন্তব্য। অপরদিকে, টিকে থেকে যে ফুলগুলো আনবে ফল, দিনশেষে তা আনবে চাষির মনে তুষ্টি।

কারণ ফুল নিয়ে সৌন্দর্য পিপাসু, বিশেষজ্ঞ ও কবির আগ্রহ থাকলেও চাষির আগ্রহ ফল ও পাতা। কারণ ফুলের গুণ এখনো অজানা চাষিদের। সজনে ফুল গবেষকদের কাছে মহামূল্যবান। এটা নিয়ে দেশীয় পর্যায়ে গবেষণাও চলমান। কৃষি খাতের অপ্রচলিত সবজি নিয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা-জাইকার সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা চলমান। গবেষণার প্রথম পর্যায়ে সজনে পাতা ও বীজ নিয়ে বিষ্ময়কর সফলতা এসেছে। এখন অপেক্ষা ফুল নিয়ে। গবেষকরা সজনে পাতাকে নিউট্রিশন্স সুপার ফুড এবং সজনে গাছকে বলা মিরাকেল ট্রি হিসেবে উল্লেখ করছেন। রাজশাহীতে কয়েক দশকে সজনের চাষ বেড়েছে।

তবে রংপুর অঞ্চলে সজনের গাছ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এক সময় রংপুর বিভাগের নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা ও ঠাকুরগাও জেলার গ্রামাঞ্চলে এমন কোন বাড়ী ছিল না যেখানে সজনে গাছ ছিল না। তবে কালের পরিবর্তনে এখন সেই সজনে গাছ তেমন চোখে পড়ে না। দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর গ্রামের আব্দুল হালিম বলেন, ১০/১২ বছর আগেও আমাদের বাড়ীতে ৩টি সজনে গাছ ছিল। বর্তমানে আমাদের বাড়ীতে আর কোন সজনে গাছ নেই। গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কছিম উদ্দিন বলেন, সজনে ফুলের সৌন্দর্য ও সজনে সবজি ধরে রাখার জন্য বাড়ীতে ২টি সজনে গাছ রাখা হয়েছে।

গাছে অনেক ফুল এসেছে। আশা করা হচ্ছে ফলন অনেক ভাল হবে। সজনের দাম বেশ ভাল। সজনে বাজারজাত করার সময় প্রতিকেজি ২শত টাকা পর্যন্ত বিক্রয় করা যায়। সজনে চাষ এখন অনেক লাভবান। বাড়ীতে ১টি মাঝি ধরনের গাছ থাকলে ১৫/১৬ হাজার টাকার সজনে বিক্রয় করা সম্ভব।

Facebook Comments Box

এই জাতীয় আরও খবর