
নওগাঁর মান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোখলেছুর রহমানের (মকে) বিরুদ্ধে উপজেলা মহিলা দলের এক নেত্রীকে লাঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার দুপুরে নওগাঁয় ফ্রেন্ডস মিডিয়া হাউজ কার্যালয়ে লাঞ্চিত করার অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান উপজেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারজিমা আক্তার (সীমা)।
লিখিত বক্তব্যে ফারজিমা আক্তার বলেন, ‘বিজয় দিবসের দিন (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের পাশে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলছিল। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আলোচনা সভায় যোগদানের জন্য আমি মিলনায়তনে প্রবেশের দরজায় গিয়া মাথা নিচু করে জুতা খুলছিলাম। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোখলেছুর রহমান মিলনায়তনে ঢোকার সময় আমার সঙ্গে তাঁর ধাক্কা লাগে। এতে আমি পড়ে যাওয়ার উপক্রম হই। আমি কোনোমতে উঠে দাঁড়াতেই মোখলেছার রহমান আমাকে পরপর তিনটি থাপ্পড় মারেন। এময় বহু আমন্ত্রিত অতিথি ও দলীয় নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘সকলের সামনে আমাকে মারার জন্য আমার সম্মানহানি হয় এবং আমার নারীত্বে আঘাত লাগে। এ সময় আমি আত্মহত্যার কথা বললে মহিলা দলের সভানেত্রী নার্গিস জাহান আমাকে সঙ্গে করে তাঁর বাড়ি নিয়ে যায়। আমি বর্তমানে তার বাড়িতেই আছি এবং এ ঘটনার পর থেকে লজ্জায় আমি আমার পরিবারের কাছে যেতে পারছি না। এমনকি আমার রুয়েটে (রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যয়নরত সন্তানের সাথে আমি লজ্জায় কথা বলতে পারছি না।’
ফারজিমা আক্তার আরও বলেন, ‘ইতিপূর্বে মোখলেছার রহমান বিভিন্ন নেতা কর্মীর সাথে এমন আচরণ করেছেন। উপজেলার মহিলা দলের সভাপতি নার্গিস জাহানকেও মান্দার ফেরিঘাটে জন সম্মুখে লাঞ্চিত করেছিলেন। এ অবস্থায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, উপজেলা ও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে আমার আহ্বান দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে মোখলেছুর রহমানের দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোখলেছুর রহমান (মকে) বলেন, ‘ফারজিমা আক্তারের গায়ে হাত তোলার বিষয়টি সঠিক নয়। ধাক্কা লাগায় মেজাজ হারিয়ে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে। থাপ্পড় কিংবা গায়ে তোলার বিষয়টি সঠিক নয়। আমাকে রাজনৈকিভাবে হেয় করার জন্য মিথ্যাচার করা হচ্ছে।’
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘মান্দায় মহিলা নেত্রীকে লাঞ্চিত করার কোনো খবর আমার জানা নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে কারও বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।