1. admin@bdtimes24.live : admin :
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা চাইলেন জামায়াত আমির সাইবার বুলিং ও অপতথ্য রুখতে তারেক রহমান সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ স্বপ্নের ফ্ল্যাটের প্রত্যয়ে স্বপ্ন শহর প্রোপার্টিজের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কানাডায় জমজমাট প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির অ্যালামনাই গেট-টুগেদার স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সিকিউরিটিজের ৫৪তম বোর্ড বৈঠক অনুষ্ঠিত জনতা ব্যাংকের এএলএম কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সাইবার আক্রমণ ঠেকানোর প্রশিক্ষণে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে বুটক্যাম্প সোনার বাংলা গড়ার নামে পরিবেশ বিপর্যয়: সাভারের কামালপুরে বন ও কৃষিজমি গিলে খাচ্ছে তথাকথিত রিসোর্ট বিএনপির ট্যাগ নিয়ে রুমিন ফারহানার ফেসবুক পোস্টে নতুন বার্তা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত: ডেপুটি স্পিকার

নওগাঁয় ঘুষ দিলেই মৃত ব্যক্তির নামেও জমি খারিজ করে দেন কল্লোল

নওগাঁ প্রতিনিধি:
  • প্রকাশে সময় : সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ১১৯ বার পঠিত

নওগাঁর প্রভাবশালী ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা মৌদুদুর রহমান কল্লোল। আ’লীগ ঘেঁষা এই কর্মকর্তা অবৈধ ঘুষ বানিজ্য করে নামে বেনামে শহরে করেছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ। সাধারণ মানুষ জমি খারিজে কল্লোলের নাম শুনলেই আতকে উঠে। আ’লীগ সরকার থাকাকালীন প্রভাবশালী এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। তাই নতুন বাংলাদেশে এমন দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তার দৃষ্টান্তর মূলক শাস্তি চায় নওগাঁর শত শত ভুক্তভোগীরা।

সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ঈদগাহের জমি খারিজ করতে ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন কল্লোল। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমির খাজনা কিংবা খারিজ করতে গেলেও ঘুষ নেন কল্লোল। কল্লোল এতো প্রভাবশালী এক ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা যে, কোন ডিসি কিংবা কোন উর্দ্ধতন কর্তা ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করার সাহস পায়নি। বিশেষ করে নওগাঁর সাবেক জেলা প্রশাসক ড. মো: আমিনুর রহমানের সাহস আর তৎকালীন সময়ে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় কল্লোল আরো বেশি প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। এছাড়া ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা সমিতির কেন্দ্রীয় ও রাজশাহী বিভাগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় কল্লোল কাউকেই তোয়াক্কা করতেন না। এমন প্রভাব খাটিয়েই ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে করেছেন কোটি টাকা কোটি টাকার সম্পদ। বিভাগীয় কেউ তার বিষয়ে কোন কথা বললেই তাকে অহেতুক হয়রানী করতেন কল্লোল।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে শহরের স্টাফ কোয়াটারের বিপরীতে নির্মাণ করা কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল “জাহানারা নিবাস” নামের বহুতল ভবনই প্রমাণ করে যে কল্লোল অবৈধ ভাবে কত কোটি টাকা কামিয়েছেন। এছাড়া শহরের বাঙ্গাবাড়িয়া এলাকায় পৈতৃক চারশতক জমির উপর নির্মাণাধীন তিনতলা বহুতল ভবনও রয়েছে।এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে নামে ও বেনামে আরো কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বলে জানা গেছে। গত ৫আগস্ট ঘটে যাওয়া আন্দোলনের পর নওগাঁর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা তৎকালীন জেলা প্রশাসক বরাবর কল্লোলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে তাকে গত ২০আগস্ট সদর উপজেলা থেকে মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ-এনায়েতপুর ইউনিয়ন ভুমি অফিসে বদলী করা হয়েছে। একজন ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা হয়ে কিভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া সম্ভব এমন প্রশ্নই এখন নওগাঁর মানুষের মুখে মুখে।
নওগাঁ ঢাকা রোডের দোগাছী গ্রামের ইউনুছ আলী বলেন আমি বোয়ালিয়া ফতেপুর কল্লোল ভাইয়ের ভুমি অফিসে আমার দাদা শশুরের জমি খারিজ করতে যাই কল্লোল বলেন মৃত মানুষের নামে খারিজ করা যাবে না।পরের দিন আবার মোবাইলে কথা বলে যাওয়ার পর দশ হাজার টাকার বিনিময়ে খারিজ করে দেন। ঘুষ দিলেই কল্লোলের কাছে মৃত ব্যক্তি জীবিত হয়, আবার জীবিত ব্যক্তি মৃত হয়।

নওগাঁ সদর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বোয়ালিয়া গ্রামের মৃত-লাল চানের প্রতিবন্ধী ছেলে সবজি বিক্রেতা ফজলুর রহমান বলেন কল্লোল যখন ফতেপুর ইউনিয়ন ভুমি অফিসে ছিলেন তখন আমার সাড়ে তিন কাঠা জমি খারিজ করতে কল্লোল তার কাছ থেকে সাত হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। শুধু প্রতিবন্ধীই নয়, জমি সংক্রান্ত কোন কাজই ঘুষ ছাড়া করতেন না কল্লোল। আমার মতো ভুক্তভোগীর অভাব নেই। আমরা স্বৈরাচার কল্লোলের দৃষ্টান্তর মূলক শাস্তি চাই।

নওগাঁর জ্যৈষ্ঠ সাংবাদিক ও জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মো: কায়েস উদ্দিন বলেন শহরের বাঙ্গাবাড়িয়া এলাকায় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সরকারি জায়গা অবৈধ ভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেন। এই বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ও ইউনিয়ন ভ’মি কর্মকর্তা কল্লোলকে জানালে তারা সার্ভে করে জানতে পারেন যে জায়গাটি সরকারি। পরবর্তিকালে কল্লোলকে ম্যানেজ করে সরকারি জায়গাটি ওই দখলকারী ব্যক্তি অন্য মানুষের কাছে কয়েক লাখ টাকায় বিক্রি করেন। এই বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তারা আমার বাড়িতে এসে আমাকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি-ধামকী প্রদান করে। কল্লোলের অবৈধ আয়ের প্রধান উৎসই হলো প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সরকারি জায়গা লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে ব্যক্তি নামে নামজারী করে দেয়া। এমন দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কঠোর ও দৃষ্টান্তর মূলক শাস্তি ও চাকুরী থেকে বরখাস্তের দাবী জানান।
সম্প্রতি বদলী হওয়া নওগাঁ জেলার মহাদেবপুরের রাইগাঁ-এনায়েতপুর ইউনিয়ন ভুমি অফিসের ভুমি সহকারী কর্মকর্তা মো:

মৌদুদুর রহমান কল্লোল বলেন ফোকাস্টিং মার্কা নিউজ প্রকাশ করলে খবর আছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি কিছু বলবেন না। আর বৈরীতা সৃষ্টি না করে তিনি একটি সমাধানে আসার অনুরোধ জানান সাংবাদিকদের।

নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: সোহেল রানা বলেন মৌদুদুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুসন্ধানের জন্য একজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।ইতিমধ্যে অনুসন্ধানের কাজ শুরু হয়েছে। সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments Box

এই জাতীয় আরও খবর