1. admin@bdtimes24.live : admin :
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা চাইলেন জামায়াত আমির সাইবার বুলিং ও অপতথ্য রুখতে তারেক রহমান সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ স্বপ্নের ফ্ল্যাটের প্রত্যয়ে স্বপ্ন শহর প্রোপার্টিজের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কানাডায় জমজমাট প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির অ্যালামনাই গেট-টুগেদার স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সিকিউরিটিজের ৫৪তম বোর্ড বৈঠক অনুষ্ঠিত জনতা ব্যাংকের এএলএম কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সাইবার আক্রমণ ঠেকানোর প্রশিক্ষণে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে বুটক্যাম্প সোনার বাংলা গড়ার নামে পরিবেশ বিপর্যয়: সাভারের কামালপুরে বন ও কৃষিজমি গিলে খাচ্ছে তথাকথিত রিসোর্ট বিএনপির ট্যাগ নিয়ে রুমিন ফারহানার ফেসবুক পোস্টে নতুন বার্তা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত: ডেপুটি স্পিকার

টাঙ্গাইলের মধুপুরে বারোয়ারী মন্দিরে অগ্নিকান্ডে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

সোহেল রানা, টাঙ্গাইল :
  • প্রকাশে সময় : শুক্রবার, ৩ মে, ২০২৪
  • ১৩৬ বার পঠিত

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি ইউনিয়নের পীরগাছা গ্রামের তিলেরটাল(তেমাথা) এলাকায় শুক্রবার(৩মে) দুপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদেও একটি বারোয়ারী মন্দিরে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে।

মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট স্থানীয়দের সহায়তায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। এ ঘটনায় মন্দির কমিটি ও বন বিভাগ একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে।

স্থানীয় ভরত বর্মণ, সুভাষ পাল, চেঙ্গু বর্মণ, উত্তমপাল, ঝুমুরন করেক, সাদেকুর রহমান, মজিবর মিয়াসহ অনেকেই জানায়, শুক্রবার দুপুর দেড় টার দিকে বারোয়ারী মন্দিরে আগুন লাগার খবর পেয়ে তারা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানান এবং নিজেরা স্ব উদ্যোগে পানি ও কলাগাছ ফেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে সোয়া তিনটার দিকে মধুপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকা-ে মন্দিরের ঘর সহ পূজার সরঞ্জামাদী পুড়ে গেছে।

মন্দির কমিটির সভাপতি দীপক চন্দ্র বর্মণ এবং সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য খোকন চন্দ্র বর্মণ জানান, বন বিভাগের গার্ড নুরুল হক ও সেলিম হোসেনের উপস্থিতিতে ডেলেবার(শ্রমিক) হুমায়ুন মন্দিরের পাশে ঝড়া পাতায় আগুন দেয়। এক পর্যায়ে সেই আগুন মন্দিরে পৌঁছে যায়। মন্দির পুড়তে দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে হুমায়ুন ও ওই ফরেস্ট গার্ডরা দৌঁড়ে পালিয়ে যায়।

মধুপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার হেমায়েল কবির জানান, আগুনের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট বিকাল সোয়া ৩টার দিকে ঘটনা স্থলে পৌঁছলে স্থানীয়দের চাপের মুখে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সমস্যার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌঁছলে দীর্ঘ দুই ঘণ্টার চেষ্টায় তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

তিনি জানান, তাৎক্ষণিক ভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া তদন্তের পর অগ্নিকা-ের কারণ জানা যাবে।
বন বিভাগের দোখলা রেঞ্জকর্মকর্তা মো. হামিদুল হক জানান, মন্দিরের জায়গা সম্প্রসারণের নামে স্থানীয় একটি চক্র বন ভূমি জবর দখলের চেষ্টা করছিল।

এ খবর পেয়ে তিনি ফরেস্ট গার্ডদের নিয়ে বাধা দিতে গেলে দখল কারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের উপর চড়াও হয়। বাধ্য হয়ে তারা পেছন দিকে পালিয়ে হাগুড়া কুড়িবাজারে গিয়ে আশ্রয় নেন। এরই মধ্যে চক্রটি বনের শুকনো পাতা ও মন্দিরে আগুন ধরিয়ে দেয়। তিনি পরে পুলিশ ও ফায়ার সাভিসে খবর দেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনা স্থলে এলে তারাও ঘটনাস্থলে আসেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসকে সহায়তা করেন।

তিনি জানান, ওই চক্রটি মন্দির ও বনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় বন বিভাগের ২৫ একর এলাকার সব রকমের গাছ-গাছালি পুড়ে গেছে। এতে বন ও পরিবেশ এবং জীব বৈচিত্র্যের প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে তারা অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

মধুপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফারহানা আফরোজ জেমি জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তবে এখনও পুলিশ টিম ঘটনাস্থল থেকে ফিরেনি। তারা ফিরে এলে বিস্তারিত জানানো যাবে।
প্রকাশ, মধুপুরের পীরগাছা গ্রামের তিলেরটাল(তেমাথা) এলাকায় বন বিভাগের জায়গায় ২০০২ সালে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি মহাদেব মন্দির প্রতিষ্ঠা করে। পরে স্থান সম্প্রসারণ করে সেখানে দুর্গামন্দির ও কালী মন্দিরও প্রতিষ্ঠাকরাহয়। কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা কালে বিষয়টি বন বিভাগের নজরে আসে।

বন বিভাগের দোখলা রেঞ্জকর্মকর্তা ওই স্থানে মন্দির প্রতিষ্ঠায় বাধা দেন। স্থানীয়রা বন বিভাগের বাধা অমান্য করে মন্দির প্রতিষ্ঠা অব্যাহত রাখে। বন বিভাগ মন্দির প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্টদের নামে বন আইনে মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় মন্দির কমিটির সভাপতি দীপক চন্দ্র বর্মণ(৫২), স্থানীয় ইউপি সদস্য ও মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র বর্মণ(৩৫), কমিটির সদস্য বিফল চন্দ্র বর্মণ(৪০) ও সত্যেন চন্দ্র বর্মণ(৩৮) এ চার ব্যক্তি ১৭দিন হাজত বাস করে জামিনে মুক্ত হন। এরপর থেকে মন্দির যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায়ই স্থানীয়রা পূজা-অর্চণা করছিলেন।

Facebook Comments Box

এই জাতীয় আরও খবর