
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর নয়, বরং এই ঐতিহাসিক বিজয়ের আসল দাবিদার দেশের সাধারণ জনগণ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আন্দোলনের একক কৃতিত্ব নেওয়ার সাম্প্রতিক প্রবণতার কড়া সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে একশ্রেণির মানুষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিজের করে নিতেই বেশি ব্যস্ত। কে কত বড় ভূমিকা রেখেছেন, কে কত বেশি জনপ্রিয় হয়েছেন কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কার তারকাখ্যাতি কতটা বেড়েছে-এসব হিসাব-নিকাশ নিয়েই তাদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই মহান গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হতে পারে না; এটি পুরো দেশের সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অর্জনের ফসল। যারা এখনও এই কৃতিত্ব এককভাবে নিজেদের দাবি করার বিভ্রান্তিতে রয়েছেন, তাদেরকে অবিলম্বে সেই মনস্তাত্ত্বিক ভুল থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক সুযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, একটি গণঅভ্যুত্থান, অসংখ্য মানুষের অভূতপূর্ব আত্মত্যাগ, পরবর্তীতে অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যক্ষ রায়ে সরকার গঠন, কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা এবং সরকারপ্রধানের আন্তরিক নেতৃত্ব-সব মিলিয়ে আজ বাংলাদেশের সামনে এক অনন্য ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা যদি এই সুযোগকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হই, তবে আমাদের এই মহান অর্জন আবারও নস্যাৎ হয়ে যাবে।
ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার কথা স্মরণ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ১৯৯০ সালের এরশাদবিরোধী স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-উভয় সময়েই তিনি রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন এবং কারাবরণ করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক চেতনাকে যখনই কোনো স্বৈরাচারী শাসক দমন করতে চেয়েছে, এ দেশের মুক্তিকামী জনগণ তখনই রাজপথে উপযুক্ত জবাব দিয়েছে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যদি কেউ মনে করেন বাংলাদেশের ইতিহাস কেবল চব্বিশের জুলাই থেকেই সূচনা হয়েছে কিংবা অতীত সংগ্রামকে মুছে দিয়ে নতুন করে ইতিহাস লেখা সম্ভব, তবে তিনি কখনোই পূর্ণাঙ্গ বাংলাদেশকে অনুধাবন করতে পারবেন না। বাংলাদেশকে সত্যিভাবে জানতে হলে যেমন হাজার বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করতে হবে, তেমনি ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই লাল-সবুজের ভূখণ্ডের ঐতিহাসিক সংগ্রাম, ত্যাগ ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিযাত্রার ইতিহাসকেও শ্রদ্ধার সাথে অনুধাবন করতে হবে।