
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জুজুর ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে পিছিয়ে রাখা যাবে না। দেশের মানুষকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে যশোর জেলার ঈদগাহ প্রাঙ্গনে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন, দেশে জনগনের শান্তি নষ্ট করার সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না। আসুন আমরা নিজেদেরকে সর্তক রাখব যাতে আর কেউ দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে। জনগণের শান্তি নষ্ট করে ১৭৩ দিন হরতাল পালন করবে সেই সুযোগ আমরা আর কাউকে দেবো না।
সমাবেশে বিগত আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের আত্মত্যাগ, নিপিড়ন-নির্যাতন, মিথ্যা মামলা দায়েরের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ, সেজন্যই আমরা জনগণের জন্য যে কাজ, যে কাজ করলে জনগণ উপকৃত হবে, সেই কাজগুলো বিএনপি করে। সেই ধাবাবাহিকতায় শহীদ প্রসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার জনকল্যাণমুখী অনেক কাজ বিএনপি আবার শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা কোনো টিকেট বিক্রি করতে চাই না। বরং আমরা বাস্তব কাজ করতে চাই। সেজন্য আমরা বলি, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।
এ সময় মঞ্চের সামনে জনগণের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, কে কে আছেন আমার সাথে দেশ গড়ার জন্য
প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের উত্তরে হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক হাত তুললে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাজারো লক্ষ মানুষ দেশ গড়ার জন্য আছেন, আলহামদুলিল্লাহ। আসুন আজকে আমাদের প্রতিশ্রুতি হবে, কবর কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। কারণ এদেশ আপনার, এদেশ আমার, এদেশ আমাদের সকলের, সকল বাংলাদেশীর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আস্থা আছে বিএনপির ওপর, তারা বিএনপিকে বিশ্বাস করে। সেই জন্যই বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে ১২ তারিখের নির্বাচনে ম্যান্ডেট দিয়েছে। যে প্রতিশ্রুতি বিএনপি জনগণের কাছে দিয়েছে, সেই প্রতিশ্রুতি যাতে বিএনপি পালন করতে পারে, বাস্তবায়ন করতে পারে, তার ম্যান্ডেট জনগণ বিএনপিকে দিয়েছে।
তিনি বলেন, পাঁচ তারিখে পরে বিএনপি পরিষ্কার বলেছে জুলাই আগস্ট মাসে যারা মানুষ হত্যা করেছে তাদের বিচার হতে হবে। কিন্তু আমরা দেখেছি পাঁচ তারিখের পরে কেউ কেউ বলেছিল আমরা সবাইকে মাফ করে দিলাম। বলেছিল না? বলেছিল।
প্রধামমন্ত্রী বলেন, আমরা কয়েকদিন আগে দেখেছি যারা বক্তৃতার জোরে জোরে কথা বলে তাদেরকেই গিয়ে দেখেছি ফ্যাসিবাদের দোসরদের সাথে ঢাকা থেকে অনেক দূরে গিয়ে মিটিং করতে জনগণ যখন সেটা ঘিরে ফেলেছে, তখন আর তারা কোন জবাব দিতে পারে না কেন ফ্যাসিবাদের সাথে গিয়ে মিটিং করেছে?
এর বাইরেও বাংলাদেশের গ্রামের, শহরের, উপজেলার মানুষ, জেলার মানুষ যে স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে না, তাদের স্বাস্থ্যের সেবা নিশ্চিত করা। যে সকল বেকার যুবক আছে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, আমাদের কাছে অগ্রধিকার হচ্ছে যে কৃষক সঠিকভাবে এখনো কৃষি উপকরণ পাচ্ছে না তার জন্য কৃষক সহায়তা প্রদানের নিশ্চয়তা করা, আমাদের কাছে অগ্রাধিকার হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের সন্তানদের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া।
সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমাদেরকে আজকে সতর্ক হতে হবে, সেই সব লোকেদের বিরুদ্ধে যারা বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়।সেই সব লোকদের বিরুদ্ধে।
একটি বিশেষ দলের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানুষকে বিভ্রান্তির চেষ্টা করেছিল, যারা ৮৬ সালে বিভ্রান্তি করেছিল, যারা ৭১ সালে বিভ্রান্তি তৈরি করেছিল যারা ২০০৯ সালে বিভ্রান্তি করেছিল, ঠিক এই সকল ব্যক্তি আজ আবার এসে ২০২৬ সালে বিভ্রান্তির চেষ্টা করছে। কাজেই আমাদেরকে আজ দেশ গড়তে হবে। আমাদের দেশকে সামনে নিয়ে যেতে হবে, আমাদের দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হবে।
এ সময় দেশের ২০ কোটি মানুষের হাততে ৪০ কোটি হাতে রুপান্তরিত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
যশোর জেলা বিএনপির উদ্যোগে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা নার্গিস বেগম, যুগ্ম মহাসচিব পানি সম্পদ মন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতি মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।