
কুলাউড়া উপজেলার মনু নদীর বাদে উঠতেই চোখে পড়ে সবুজের সমারোহ। আছে হলুদের ছড়াছড়ি। এ যেন এক সবুজ আর হলুদ বিপ্লব। শত শত একর জমিতে বাধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, বেগুন, আলু, মুলা, সরিষাসহ বিভিন্ন ধরনের ডাল সবজি। ব্যস্ত সময় কাটছে এখানকার কৃষকদের। কেউ সবজি বাগানে পরিচর্যা করছেন। আবার কেউ ফসল তুলছেন।
সরজমিনে শনিবার ২৭ ডিসেম্বর বিকেলে কুলাউড়া উপজেলার পৃথিম পাশা ও হাজীপুর ইউনিয়নের দলিয়া ,সালিকা, ছইদল, আন্দকুনা নদীর চরে গেলে এমন চিত্র চোখে পড়ে। জানাযায় স্থানীয় কৃষক আহমদ আলী (২৭),হারুন মিয়া (৪৩),ওয়ারিস আলী ৫০, সেলিম মিয়া (৩৫),ছয়ফুল মিয়া, ৩৪,ছমির মিয়া ৬৫,সফাত,মিয়া ৫৫, দলিয়া গ্রাম,সালিকা,ছইদল বাজার হাজিপুর আন্ডুকুনা নদীর চরে আখ থেকে হেক্টর দিয়ে গুর ও লালি তৈরী করছেন।আখ থেকে গুর ও লালি ও আখের রস বিক্রি করে তারা সাবলম্বি অচ্ছেন।পাশা পাশি সবজি চাষে সাবলম্বী স্থানীয় কৃষকরা।
তারা আরও বলেন ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে খরস্রোতা মনু নদী। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে থেকে আসা পাহাড়ি এই নদী হয়ে প্রতি বছর এখানে প্রচুর পলিমাটি নেমে আসে। যে কারণে চরের মাটি বেলে দোঁআশ।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ মাটিতে কোনো ধরনের সার প্রয়োগ না করেও আখ, ধান, সরিষা, তিল তিষি ডালসহ সব ধরনের শাক সবজি লাগানো যায়। আর ফলন হয় সাধারণ জমির চেয়ে দুই তিন গুণ বেশি।
নদীর চরে চাষ করা কৃষকরা আরও জানান, এবছর তারা টমেটো, বেগুন, বাধাকপি, ফুলকপি, আলু, মুলা, সরিষামিষ্টি কুমরা,ফরাশ ।
সবজি চাষে গ্রামের কৃষকরা , মনু নদীর সবজি চাষ করে নদীর দুই পাড়ের অসংখ্য কৃষক নিজেদের অভাব গুছিয়েছেন।এমনকি অনেক কৃষক ছেলে সন্তানকে বিদেশে পাঠানো ঘরবাড়ি তৈরি ও জমি জমা ক্রয় করছেন।
সরজমিন কৃষকরা অভিযোগ করেন, এখানে সাধারণ মানুষ সরকারি সহায়তা বা পরামর্শ পায় না। নতুবা মনু নদীর দুই পারে ডাল গম সরিষাসহ শাক সবজিরও আখ চাষে পালটে যেতো গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতি।
কুলাউড়া উপজেলার কৃষি অফিসার মো: জসিম উদ্দিন বলেন,কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বিপুল আকারে এবার কৃষি কাজে শাক সবজি ফসল চাষ করা হয়েছে। কৃষি অধিদপ্তর থেকে সকল কৃষকদের কে পদর্শনীয় ট্রেনিং করে সু পরামর্শ দেওয়া হয়।এবং যেসব কৃষকরা যোগাযোগ করেন নাই তাদের কে স্থানীয় বা উপজেলায় কৃষি অফিসে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেন এবং ফসল চাষের সু পরামর্শ নিতে আহবান করেন।