
কেন্দ্রীয় জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, অন্তবর্তীকালীন সরকারকে জামায়াত সহযোগীতা করতে চাই। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ ত্যাগের আগেও দেশে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে সে লাশগুলো আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি এখনো বিদেশে বসে দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন।

এখন এমন একটি সময়ে চুয়াডাঙ্গায় রুকন সম্মেলন হচ্ছে যখন বাংলাদেশের মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখছে। অন্তবর্তীকালীন সরকার জনগণের আকাঙ্খা অনুযায়ী রাষ্ট্রের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। এ সরকার অবাধ গ্রহণযোগ্য একটি জাতীয় নির্বাচন দেবে। প্রধান উপদেষ্টা আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমরা দলগতভাবে সে সময়,তার কাছে আমরা ওয়াদা করেছিলাম, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য, নির্বাচনের পরিবেশ তৈরী করার জন্য আমাদের দলের পক্ষ থেকে সহযোগীতা থাকবে। দেশবাসী, ছাত্র-জনতা ও সেনাবাহিনীকে সজাগ থাকতে হবে। হেলিকপ্টার ব্যবহার করে নিজের দেশের মানুষকে নির্বিচারে শুধু হত্যায় করেনি,আগুন দিয়ে লাশগুলো পড়িয়ে ছাই করে দিয়েছিল।
তিনি শুক্রবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে দর্শনা জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জামায়াতের জেলা আমীর রুহল আমিনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী এ্যাডভোকেট আসাদুজাজামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জেলা রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।
জেলা জামায়াত আয়োজিত রুকন সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল প্রধান মোবারক হোসেন,অঞ্চল টিম সদস্য ড.আলমগীর বিশ্বাস। সম্মেলনের শুরুতে কোরআন তেলওয়াত করেন মাওলানা আব্দুল খালেক। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আজিজুর রহমান।
সম্মেলনে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী এ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, সহকারী সেক্রেটারী আব্দুল কাদের, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য এ্যাডভোকেট মুসলিম উদ্দিন, আব্দুর রউফ, মাওলানা লোকমান হোসাইন, ড.রুহুল আমিন, মাওলানা মহিউদ্দিন ও জিয়াউর হকসহ উপজেলা জামায়াতের আমীর ও সেক্রেটারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি আরো বলেন, সাংবাদিকরা আমার কাছে প্রশ্ন করেন আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে কিনা ? যারা দেশের সংবিধান মানে না, যারা গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, যারা এদেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে, মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, তাদের ব্যাপারে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে, তারা ভোটে আসবে কি আসবে না।
এখনো রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশ্বাসঘাতকতার কথাটি উচ্চারিত হয়। শহীদ ছাত্র-জনতার মায়েদের চোখের পানি-দেহের রক্ত এখনো শোকায়নি। শোকাতুর মায়েদের সাথে আপস করার চেষ্টা চালাচ্ছে স্যাডিস্ট আওয়ামী লীগ। ৫ আগস্ট বিপ্লবের পরে তৎকালীন প্রধান বিচারপতিকে দিয়ে একটি প্রতি বিপ্লব করতে চেয়েছিল, কিন্তু ছাত্র জনতা সেটা নস্যাৎ করে দিয়েছিল। আনসার সদস্যদের ব্যবহার করে ক্যু করার চেষ্টাও ব্যর্থ করে দিয়েছিল ছাত্র-জনতা।
সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা পৌর জামায়াতের আমীর এ্যাডভোকেট হাসিবুল ইসলাম, সদর উপজেলা আমীর বিলাল হোসাইন, গাংনী-আসমানখালী আমীর আব্বাস উদ্দীন, আলমডাঙ্গা উপজেলা আমীর দারুস সালাম, দামুড়হুদা উপজেলা আমীর নায়েব আলী, দর্শনা থানা আমীর রেজাউল ইসলাম ও জীবননগর উপজেলা আমীর মাওলানা সাজেদুর রহমান, ছাত্র শিবিরের জেলা সভাপতি মহসিন এমদাদুল্লাহ জামেন ও সেক্রেটারী সাগর আহম্মেদ। রুকন সম্মেলনে জেলার ১ হাজার ৫৫৭ জন নারী-পুরুষ অংশ গ্রহণ করেন।