
অধ্যক্ষ মাজেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনিয়মই তার কাছে নিয়ম, আওয়ামী সরকারের লুটপাটের আমলে অনিয়ম ও দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য গড়ে তোলেন এই মাজেদ। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পরও বহাল তবিয়তে আছেন অধ্যক্ষ মাজেদ।
আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ হওয়ার পর হয়েছেন শতকোটি টাকার মালিক। তৎকালীন স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের এমপি জ্যাকবের সহযোগিতা ও প্রত্যক্ষ মদদে মাজেদের একক আধিপত্য গড়ে ওঠে এ কলেজে।
চরফ্যাশন উপজেলার বড় পর্দা নামক স্থানে দুটি ভবনে তার রয়েছে ২৫টি ফ্ল্যাট ও ঢাকার মোহাম্মদপুরে ১৬ কোটি মূল্যের ছয়টি ফ্ল্যাট। পোস্তগোলা সাত কাঠা গুলশানে, দুই কাঠা বরিশালে, চট্টগ্রামের পাঁচটি প্লট, ওসমানগঞ্জে পাঁচ একর জমি।
জ্যাকব কলেজে ২০০৪ সালে অনুমোদন পেলে ও ১৯৯৯ সাল থেকে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে চার থেকে পাঁচ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন এই অধ্যক্ষ।
২০১৬ সালের আগে এনটিআরসির নামে ৬-৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন শিক্ষকদের কাছ থেকে। ৯টি প্রতিষ্ঠান নিজের খবরদারি করে শুরু করেন নিয়োগ-বাণিজ্য। শোনা যায়, তার স্ত্রী ও তৃতীয় কন্যা জ্যাকবের খুব আস্থাভাজন ছিলেন। চরকুকরি ও চরপলিমা সরকারের খাস জায়গা ও বিএনপি নেতাদের জায়গা দখল করেন। ২৬ জন শিক্ষক নিয়োগে ছয়জনকে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা করে নেন। বিভিন্ন সময় শিক্ষক ও বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।
জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঠেকানোর জন্য ঢাকায় এসে এমপি জ্যাকবকে ৫০ লাখ টাকা দেন এবং চরফ্যাশনের উপজেলা ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঠেকানোর জন্য তার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভূমিকা ছিল বলে এলাকার একাধিক ব্যক্তি ও ভুক্তভোগী দাবি করেন।
আওয়ামী শাসনামলে বিএনপি ও জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের হয়রানি করতেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষা সহায়তা করতেন।
এই বিষয় অধ্যক্ষ মাজেদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমরা আগে থেকেই ধনাঢ্য পরিবার। চরফ্যাশন উপজেলায় আমার ছয়তলা দুটি বাড়ি রয়েছে এবং চরাঞ্চলে আমার ২০ একর জমে রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, স্বৈরাচারী সরকারের শাসনামলে তৎকালীন এমপি জ্যাকবের সহায়তায় অনেকের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে মামলা ও হামলার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদদাতা কীভাবে এখনো এই অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে বহাল তবিয়তে আছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত। এ বিষয়ে তারা শিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। অন্যথায় তারা তার বিরুদ্ধে ও তাকে অপসারণের জন্য দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবেন।