
রাজনৈতিক পরিস্থিতির শিকার হয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর বিদেশে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ধর্মবিশ্বাস নির্বিশেষে রাষ্ট্রের কাছে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও প্রাপ্যতা সম্পূর্ণ সমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন মুসলমান হিসেবে তিনি হয়তো সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু এই দেশের আলো-বাতাস ও সম্পদের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; রাষ্ট্র সবাইকে সমান সুযোগ ও সুরক্ষা দিতে বাধ্য।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, লাখো মুক্তিকামী মানুষ ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলেন। একইভাবে স্বাধীনতার পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানেও প্রতিটি ধর্মের মানুষ রাজপথে এক হয়ে স্বৈরাচারের বুলেটের মুখোমুখি হয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসকেরা যেমন ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে গুলিবিদ্ধদের চিকিৎসা দিয়েছেন, তেমনই রাষ্ট্র পরিচালনায়ও কোনো বিভাজন রাখা হবে না।
ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত বিষয় হলেও নাগরিক পরিচয় সবার অভিন্ন—এ কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত এই দেশকে পারস্পরিক সম্প্রীতির মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হবে। কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে তিনি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মাবলম্বী মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন এবং উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান।
মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মঙ্গলবার সকালে ও দুপুরে রংপুর ও রাজশাহীতে পূজার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রাতে চট্টগ্রামে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।