কে এম নাজমুল ইসলাম এর বিজয়কে প্রশাসনের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে জয়যুক্ত করেন। সঠিক ফলাফল ঘোষনা না দিয়ে তাদের ইচ্ছামতন ফলাফল প্রকাশ করে। ভোটের ৮% থেকে ১০% ছিল কিন্তু প্রশাসন দেখায় ২৬% থেকে ২৭%, আমার ভোট প্রাপ্ত ছিল ১৭,৮৪২ কিন্তু এই ভোটকে তারা ভিন্ন খাতে নিয়ে যায় রির্টানিং কর্মকর্তা ও প্রধান সি আই সি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করেন।
গত ৮ই মে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফলাফল কারচুপি করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে জয়লাভ করতে প্রশাসন সরাসরি প্রকাশ্যে সহযোগিতা করেছিল ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ। এমন অভিযোগ করেছেন নির্বাচনের কাপ-পিরিজ প্রতীকের প্রার্থী এবং স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক কে এম নাজমুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার বিজয়কে তারা প্রভাব খাটিয়ে ঘোষণা না দিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শামসুল আলম চৌধুরীকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। নির্বাচনের সাত দিন আগে থেকে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির নেতৃত্বে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিকলী কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ বারোটা ইউনিয়ন ও পৌরসভার ২৭টা ওয়ার্ড সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালায়। তারা তাদের প্রার্থীকে জয়যুক্ত করেই মাঠ ছাড়ে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে জয়যুক্ত করা হয়।
কে এম নাজমুল ইসলাম বলেন, আমি সে সময় নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেই। বিষয়টি নিয়ে আমাকে প্রেস কনফারেন্স করতে দেয়নি। সে সময় আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক, সাধারণ সম্পাদক শাহ মো: ইশতিয়াক আরিফ পুলিশ দিয়ে আমাকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে চুপ থাকতে বলা হয়। প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে সহযোগিতা চাইলেও তারা আমাকে কোন প্রকার সহযোগিতা করেনি। তিনি বলেন, আমি এখন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিচ্ছি এবং ফলাফল বাতিলের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হবো। তিনি বলেন, ফরিদপুর বিএনপির ঘাটি। স্বাধীনতার পর থেকেই এ অঞ্চলে বিএনপি ৭০ থেকে ৮০ হাজার ভোটে বারবার জয়লাভ করেছে। তিনি বলেন ভোটের দিন আমার কোন এজেন্টকেই ঢুকতে দেয়নি অনেকে গেলেও দুপুরের পরে তারা আর থাকতে পারেনি বের করে দিয়েছে নির্বাচনের প্রচারণার সময়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী, ক্যাডার আমার কর্মীদের নানাভাবে হয়রানি করেছে। ভোট প্রদানের সময়ও আমার কর্মীদেরকে হুমকি দিয়ে ভয় দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচনে ফলাফল পরিবর্তন করেছে। তখন প্রশাসনও আওয়ামী লীগের কথায় চলতো।
তিনি বলেন, ৮ মে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৬ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তারা হলেন, ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও কোতয়ালী আওয়ামী লীগের সাবেক আহবায়ক মো. মনিরুল হাসান মিঠু (টেলিফোন মার্কা), ফরিদপুরের কোতয়ালী আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফকির মো. বেলায়েত হোসেন (মোটরসাইকেল মার্কা), ফরিদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামচুল আলম চৌধুরী (আনারস মার্কা), বিএনএফ এর প্রার্থী গোলাম রব্বানী খান (দোয়াত-কলম মার্কা) কোতয়ালী আওয়ামী লীগ নেতা রউফ উন নবী (হেলিকপ্টার মার্কা) এবং আমি স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক কে এম নাজমুল ইসলাম (কাপ-পিরিজ মার্কা)। তিনি বলেন, কোতয়ালী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম চৌধুরী আনারস প্রতীক নিয়ে ৩১ হাজার ৯শ ৩১ ভোটে তাকে নির্বাচিত দেখানো হয়। ফরিদপুর সদর উপজেলায় মোট ভোটার ৪,০৪,৩০০ জন (ডিসেম্বর ২০২৩)। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,০২,৭৭৫ জন, নারী ভোটার ২,০১,৫৩৩ জন এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন।