চুয়াডাঙ্গায় গত ৩ দিনের ব্যবধানে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ জেলায় মৃদু ও মাঝারী তাপ প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।
তাপ প্রবাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে। বোরো ধানের ক্ষতি এড়াতে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, রবিবার (৬ এপ্রিল) বেলা ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস,এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৪৩ শতাংশ। গত শনিবার (৫ এপ্রিল) বেলা ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো ৩৮ দশমিক ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস, এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ২৭ শতাংশ ।
গত শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বেলা ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস, এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ২২ শতাংশ। ১৩ মার্চ থেকে চলতি মৌসুমে তাপমাত্রা রেকর্ড শুরু হয়েছে। ১৩ মার্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। ১৩ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত এ জেলায় ৩৪ ডিগ্রী থেকে ৩৯ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা ওঠানাম করেছে।
তাপ প্রবাহের কারনে চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানান, ধান গাছ বৃদ্ধির পর্যায়ে কাইচ থোড় থেকে শক্ত দানা অবস্থায় তাপ প্রবাহ থেকে ধান রক্ষা করার জন্য জমিতে সর্বদা ৫ থেকে ৭ সেন্টিমিটার পানি ধরে এবং জমিতে যেনো পানির ঘাটতি না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
এ অবস্থায় ধানে শীষ ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ হতে পারে। রোগের ললক্ষ্মণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই প্রিভেনটিভ হিসাবে বিকাল বেলা ট্রপার ৮ গ্রাম ১০ লিটার পানি অথবা নেটিভো ৬ গ্রাম ১০ লিটার পানি ৫ শতাংশ জমিতে ৫ দিনের ব্যবধানে দু'বার স্প্রে করতে হবে। তিনি আরো বলেন, বোরো ধানের ক্ষতি এড়াতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শের জন্য সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সচেতন রাখা হয়েছে। সদর উপজেলার কুতুবপুর ও ভুলটিয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন জানান, বর্তমানে কৃষকরা বোরো ধানের পরিচর্যা করছে। তাপমাত্রা বেশী হওয়ায় সেচ বেশী সময় দেয়া লাগছে। এতে সেচ খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ধানের জমিতে পরিমানমত পানি না থাকলে ধানে চিটা দেখা দিতে পারে,সে বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম জানান, চলমান তাপ প্রবাহে ধানের যেনো ক্ষতি না সে ব্যাপারে তিনিসহ অন্যান্য কৃষকরা সচেতন রয়েছেন।