আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পদার্থ বিজ্ঞানী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের অগ্র সেনানী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিযুক্ত হওয়ায় মোরেলগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে গত
শনিবার সকালে আব্দুল আজিজ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাটে গণসংবর্ধনা দেয়া হয়। অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম এর গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মোরেলগঞ্জ উপজেলাসহ বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ব্যাপক জনসমাগম ঘটে।
ফুলেল শুভেচ্ছা ও মানুষের ভালোবাসায় অভিষিক্ত হন এ জননন্দিত মোরেলগঞ্জের কৃতিসন্তান প্রফেসর এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। মোরেলগঞ্জবসীর পক্ষ থেকে আমাকে যে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে তা আজীবন কৃতজ্ঞতার সাথে মনে থাকবে। মোরেলগঞ্জ তথা বাগেরহাটবাসী আমার প্রতি যে সম্মান ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন দেশ তথা জাতির কল্যাণে নিবেদিত থেকে যেন আমি তা শোধ করতে পারি। মোরেলগঞ্জবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি আপনাদের অবহেলিত ও অনুন্নত এলাকার ওবায়েদ। আমি পিছিয়ে আপনাদের অজপাড়া গাঁয়ের সাধারণ ওবায়েদ। পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার কর্তৃক ধ্বংস হওয়া রাষ্ট্র কাঠামো বিনির্মাণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশির্বাদপুষ্ট দেশ নায়ক তারেক রহমানের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে দলমত ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
অন্যায়কারীরা যত বড় শক্তিশালী হোক না কেন তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তারা যা করছে আমরা তা করবো না। আমরা যদি একই অন্যায় করি জনগণ তা প্রত্যাখান করবে। ফ্যাসিস্ট সরকারের কলঙ্কজনক পতন থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। ধর্মবর্ণ ও দলমত নির্বিশেষে আমরা সবাই সমান। কোন বৈষম্য থাকবে না। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল বৈষম্য ও দেশবিরোধী চক্রান্তকারীদের মোকাবেলা করতে হবে। তবেই দেখা যাবে দিনশেষে সত্যের বিজয় এবং মিথ্যার ধ্বংস হয়েছে। দক্ষিণ বাংলার কৃতি সন্তান অনুষ্ঠানের মধ্যমণি সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেন, বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হলে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা হচ্ছে শিক্ষাকে তুলে ধরতে হবে। ছাত্র-শিক্ষক ও জনতার বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের স্বৈরশাসনের পতন হয়েছে এবং দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এর মর্ম বুঝতে হবে। অল্প সময়ের মধ্যে এত বেশি মানুষ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছেন, এমন নজীর পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোথাও নেই। শহীদ আবু সাঈদ বলেছেন ,আসো গুলি করো, আমি বিজয়ী হবো। আবু সাঈদ বিজয়ী হয়েছেন। দেশের মানুষকে পথ দেখান শিক্ষকরা। যখন শিক্ষকরা আদর্শ ও নৈতিকতাবিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকেন তখন দেশ টিকতে পারে না। বিশ্বের নামিদামি ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৫টি রয়েছে আমেরিকায়। শিক্ষার দিক দিয়ে আমেরিকা এগিয়ে বলে তাঁরা সবচেয়ে শক্তিশালী। বাংলাদেশকে সম্মানজনক ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে ছাত্র-ছাত্রীদের শ্রেণি কক্ষে যেতে হবে এবং লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে হবে।
একমাত্র ছাত্ররাই পারে দেশ জাতির কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে। তিনি আরো বলেন, অনুষ্ঠানের মধ্যমণি সংবর্ধিত অতিথি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ড.এবিএম ওবায়দুল ইসলাম এর প্রতি মোরেলগঞ্জ তথা বাগেরহাটবাসীর এত ভালোবাসা ও জনসমর্থন দেখে আমি অভিভূত। তিনি একজন সৎ ও খাঁটি দেশপ্রেমিক মানুষ। শিক্ষাসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে গণমানুষের নেতা অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বের প্রতি অবিচল থেকে তাঁকে সহযোগিতার জন্য মোরেলগঞ্জবাসীর প্রতি ড. মঈন খান আহ্বান জানান।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, বাউবির ট্রেজারার প্রফেসর ড. আবুল হাসনাত মোহা: শামীম, বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন, মোরেলগঞ্জ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সংবর্ধনা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম আজাদ, সংবর্ধনা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রুহুল আমীন ফকির, প্রফেসর আবু জাফর ও স্বনামধন্য শিক্ষক জনাব মোঃ মোস্তফা জামান খান।
মোরেলগঞ্জবাসীর আয়োজিত অভূতপূর্ব এ গণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ ও বিএনপির বিভিন্ন স্তরের হাজার হাজার নেতাকর্মী, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ এবং বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত অগণিত সুধীজন অংশগ্রহণ করেন।