টানা বর্ষণে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা ব্যাপী ব্যাপক ক্ষতি সাধণ হয়েছে। অতি বৃষ্টিতে পাকা সড়কসহ জলাবদ্ধতা ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হাট বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে সবজির। দুই সপ্তাহ ব্যাপী অতি বৃষ্টিতে সাঁথিয়া পৌরসভাধীন বোয়াইলমারী-আমোষ সড়কের কয়েক জায়গায় এজিংসহ প্যালাসাইডিং অংশ ধসে গেছে। ফলে ব্যস্ততম সড়কটিতে যানচলাচল ব্যহত হচ্ছে। সড়কটি অতিদ্রুত ঠিক করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এছাড়াও উপজেলার পৌর সদর থেকে ২৪ মাইল সড়কের তিন স্থানে বড় ধরণের ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে সড়কে বড় ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ধসে যাওয়ায় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। কাশিনাথপুর থেকে শহীদ নগর সড়কের দুই স্থানে বৃষ্টিতে সড়ক ধসে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন সড়ক এরকম ছোট বড় ধসের ও জলাবদ্ধতা দেখা গেছে।
বৃষ্টিতে উপজেলার নিম্নাঅঞ্চল জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে বাড়ির উঠান, বাড়ির প্রবেশের রাস্তা। অনেক বাড়ির উঠানে পানি জমার কারণে রান্নাসহ প্রয়োজনীয় কাজ ব্যহত হচ্ছে। অধিকাংশ পরিবারের অপরিকল্পিত বাড়ি ,ঘর নির্মানে পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা নষ্ট করা হয়েছে। সাঁথিয়া প্রেসক্লাব সংলগ্ন মাসুদের স্ত্রী জানান, বৃষ্টির পানিতে রান্না করতে পারছি না। চুলা সেচে কষ্ট করে রান্না করতে হয়। বিষ্ণবাড়িয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন জানান, ঘরের দরজার মুখে পানি। সড়কে উঠতে হলে পানি পার হতে হয়। উপজেলার অনেক স্থানে চলাবদ্ধতার কারণে ঘরে বন্ধি হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার। অপরিকল্পিত ভাবে বাড়ি,ঘর নির্মানে অনেক পরিবার জলাবদ্ধতায় ভুগছেন বলে সচেতন মহলের দাবি।
এদিকে টানা ভারী বর্ষণে মাঠের ও বাড়ির সবজি বাগান নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলার মাঠে আবাদকৃত মরিচ গাছ অতি তাপদাহে ক্ষতি হবার পর এবার নতুন করে বৃষ্টিতে ক্ষতি সাধন হয়েছে। কৃষকের লাগানো বেগুন,মুলা, পটলসহ নানা ধরণের সবজি গাছ বৃষ্টির পানিতে মরে গেছে। এতে সবজির ভরা মৌসুমে বাজারে উচ্চ মূল্য রয়েছে সবজির। জমিতে মরে পচেঁ গেছে মুলা ও পটল গাছ। উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে সবজির আকাশ ছোয়া দাম থাকলেও সবরাহ সংকটে ভুগছে ত্রেতা ও বিক্রেতা।
সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, বৃষ্টিতে গ্রামীণ ও আনঞ্চলিক সড়কের অনেক স্থানেই ধসের ঘটনা ঘটেছে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ধসে যাওয়া সড়ক মেরামতের ব্যবস্থা গ্রহণ করব।