শেষ বাঁশি বাজতে তখন আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি। ম্যাচ ১-১ সমতায়, অতিরিক্ত সময়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল দুই দল। ঠিক সেই মুহূর্তেই বদলি হিসেবে নামা মিকেল মেরিনো স্পেনের ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তার শেষ মুহূর্তের গোলে বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে স্পেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে স্প্যানিশরা। ধারাবাহিক চাপের ফল আসে ৩০তম মিনিটে। দানি ওলমোর শট বেলজিয়ামের গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলে ফাবিয়ান রুইজের শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ায়। সেই গোলেই এগিয়ে যায় স্পেন।
তবে বিরতির আগেই ম্যাচে সমতা ফেরায় বেলজিয়াম। ৪১তম মিনিটে টিমোথি কাস্তানিয়ের দারুণ ক্রস থেকে চার্লস ডি কেটেলারে শক্তিশালী হেডে গোল করেন। চলতি বিশ্বকাপে এটিই ছিল স্পেনের বিপক্ষে প্রথম গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই একাধিক আক্রমণ চালালেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না। ৭২তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তার পরিবর্তে নামা সেনে লামেন্স শেষ দিকে কঠিন চাপের মুখে পড়েন।
ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে পাউ কুবারসির শট লামেন্স পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হলে ফিরতি বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে জাল খুঁজে নেন মিকেল মেরিনো। সেই এক গোলেই বদলে যায় ম্যাচের ভাগ্য, উল্লাসে ফেটে পড়ে স্প্যানিশ শিবির।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই নিশ্চিত হয় স্পেনের বহু প্রতীক্ষিত সেমিফাইনাল। আর শেষ মুহূর্তের এই হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় বেলজিয়াম। নাটকীয় এই জয়ের পর শিরোপার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে স্পেনের সামনে।