পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পাবনার বেড়া উপজেলায় সুবিধাবঞ্চিত মাদরাসা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন -শিক্ষার্থী সহযোগিতা সংগঠন।
শনিবার (২১ মার্চ) উপজেলার পৌর সদরের হাটুরিয়া এলাকার জামেআ ইসলামিয়া মিফতাহুল উলুম মাদরাসা, আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া কাছিমুল উলুম মাদরাসা এবং তা’লিমুন নিসা মহিলা মাদরাসার শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে ঈদের নতুন পোশাক, উন্নতমানের খাবার ও ঈদ সালামি বিতরণ করা হয়। পবিত্র মাহে রমজানের চেতনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতেই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
জানা গেছে, সংগঠনটি গত ৬ বছর ধরে নিয়মিতভাবে এতিমখানা ও মাদরাসার শিশুদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করে আসছে। প্রতি বছরের মতো এবারও শিক্ষার্থীদের জন্য জুব্বা ও পায়জামার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ঈদের আনন্দ পূর্ণ করতে প্রত্যেকের হাতে নগদ ঈদ সালামি এবং বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া রমজান মাসজুড়ে বিভিন্ন মাদরাসায় ইফতার ও রাতের খাবারের সংস্থান করে আসছে সংগঠনটি।
এবারের আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অন্যতম সদস্য আদিব রেজা, হেলাল উদ্দিন, লাল মিয়া, আল আমিন ও আবু সাইদ। পোশাক ও সালামি পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মাদরাসা ছাত্র মিরাজুল ও ওহীদুল জানায়, ঈদের দিন বাড়িতে না গিয়েও তারা আজ অত্যন্ত আনন্দিত। মাদরাসা শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের এমন মানবিক উদ্যোগে আমি অভিভূত। তারা শিশুদের মুখে হাসি ফুটিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মেহেরাব হোসেন জিম এই উদ্যোগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ২০১৬ সালে স্কুলজীবনের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে এই যাত্রা শুরু করেছিলাম। আমরা চাই না মাদরাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রাস্তায় হাত পেতে চলুক।
সংগঠনটির উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেলাল উদ্দিন শিক্ষার্থীদের এই মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সমাজের বিত্তবানদের তাদের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, কেবল ঈদ উপহার নয়, সংগঠনটি সারা বছর পাঠাগার পরিচালনা, শীতবস্ত্র বিতরণ ও এতিমদের সহযোগিতা করে আসছে। তাদের এই মানবিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি তারা ‘বেস্ট ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত হয়েছে। উপহার বিতরণের পাশাপাশি তারা মাদক ও বাল্যবিবাহ রোধে উপস্থিত জনতাকে সচেতন হওয়ারও আহ্বান জানান।
ভবিষ্যতেও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে সংগঠনের সদস্যরা জানান, সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় তারা এই কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে চান।