বাতিল হয়ে গেলো দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন আয়োজনের বিধান। ফেরানো হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা।
আজ মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলসহ বেশ কিছু বিষয়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কেন অবৈধ হবে না, এ মর্মে জারি করা রুলে এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের মূল অংশ পাঠ করেন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। এতে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীকে আংশিক অবৈধ বলে ঘোষণা করেন তিনি।নিয়ে ঢাকা উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কফিল উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে জনগণের ভোটের অধিকার না থাকলে গণতন্ত্র সুসংহত থাকে কী করে? শুধু মানুষের ভোটের অধিকার আদায় করতেই বিএনপি গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে। আন্দোলন করতে গিয়ে আমরা জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। বছরের পর বছর জেল খেটেছেন আমাদের দলের নেতারা। বাদ যায়নি তৃণমূলের কর্মীরাও।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার পর মানুষ মন খুলে কথা বলতে পারছে। আদালতের আজকের রায়ের মাধ্যমে মানুষের ভোটের অধিকার ফিরবে বলে আমরা আশা করি। দেশের মানুষ কথা বলতে শুরু করেছে, এটা শুভ সংবাদ। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসায় মানুষের ভোটের অধিকার সুসংহত হলো বলেই আমরা মনে করি।
বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম বলেন, গত ১৭ বছর বিএনপি আন্দোলন করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার জন্য। আমরা আন্দোলন করতে গিয়ে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের রোষানলে পড়েছি। হাজার হাজার মামলা খেয়েছে আমাদের নেতাকর্মীরা। আমাদের মূল আন্দোলন ছিল মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনা।
আদালতের মাধ্যমে, আইনের মাধ্যমে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরেছে। আমরা একে সাধুবাদ জানাই। এই রায়ের মাধ্যমে দেশবাসী হারানো অধিকার ফিরে পাবে। এ রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়েছে। আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে মানুষের ভোটের অধিকার আবার ফিরলো।