দশ বছরের রেকর্ড টপকে চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস,বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ২৬ শতাংশ। চলতি মৌসুমে এটিই চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এর আগে ২০১৪ সালের ২১ মে চুয়াডাঙ্গার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো ৪৩ দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তার আগে ২০০৫ সালে ২ জুন চুয়াডাঙ্গার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এছাড়া ২০১২ সালে ৪ জুন চুয়াডাঙ্গার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৪২ দশমিক ৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
টানা প্রায় এক মাস ধরে এ জেলায় অব্যহত রয়েছে মাঝারী, তীব্র ও অতি তীব্র তাপপ্রবাহ। চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, সোমবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টায় চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ২৬ শতাংশ। এ দিন বেলা ৩টায় দেশের সর্বোচ্চ একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় শুধুমাত্র বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১৩ শতাংশ। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অনেক বেশী থাকায় গোটা জেলায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে।

চলমান দাবদাহে বেশী বিপাকে পড়েছে কৃষক, দিনমজুর ও হতদরিদ্র মানুষ। মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে প্রচন্ড রোদে তাদের কাজ করতে হচ্ছে। জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের ভ্যান চালক আবুল কাশেম বলেন, ভ্যান চালানোর সময় গায়ের চামড়া পুড়ে যাওয়ার মত হয়। গরমে এত কষ্ট সহ্য হয়না। কিন্তু পেট তো মানেনা। সে কারনে কাজে বেরুতেই হয়।
একই গ্রামের কৃষক জলিল বলেন, এত রোদ গরমে মাঠে কাজ করার জন্য বাড়ী থেকে বের হতে ইচ্ছা হয়না। কিন্তু কৃষি কাজের জন্য মাঠে যেতেই হয়। আল্লাহ যে এ গরম থেকে কবে রেহাই দেবে। আন্দুলবাড়ীয়া গ্রামের রিক্সাচালক মিনারুল হক বলেন,বাড়ীর সদস্যদের খাবার জোগাড় করতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই গরমে রিক্সা নিয়ে বের হয়েছি। জীবননগর উপজেলা শহরের বাসস্ট্যান্ডে ইজিবাইক চালক মমিন বসে ছিল।
তিনি বলেন, প্রচন্ড গরমে মানুষ বাড়ী থেকে বাইরে বের না হওয়ার কারনে ভাড়া হচ্ছে না। পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান আরো বলেন, সোমবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস,বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১৬ শতাংশ,এদিন সকাল ৯টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৩ দশমিক ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৪৯ শতাংশ।
তিনি আরো জানান, আগামী মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) পর্যন্ত তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। এরই মধ্যে বৃষ্টির কোন সম্ভবনা নেই।