টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর না করে পানি, শিক্ষা, সমাজকল্যাণ ও স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা ও যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, শুধু ওষুধ বা সিরিঞ্জ দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এর জন্য সবার আগে রোগ প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
এসডিজি বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনা সম্পর্কিত জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা ও জেন্ডার বৈষম্য কমানোর পাশাপাশি এসডিজি গোল-৩ অর্জনের জন্য স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে পানি, শিক্ষা ও সমাজকল্যাণের মতো খাতগুলোকে একত্র করতে হবে। শুধু ওষুধ বা স্যালাইন দিয়ে এসডিজি গোল অর্জন সম্ভব নয়; এর মূল ভিত্তি হতে হবে রোগ প্রতিরোধ, যার ওপর প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছেন।’
গ্রামাঞ্চলের স্যানিটেশন পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে মানুষকে সচেতন করতে হবে। বাজারঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে ময়লা হাতে ধরার পর একই হাত ও টাকা দিয়ে লেনদেনের মতো অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে।
উপকূলীয় অঞ্চলের পানির সংকটের প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট ও লবণাক্ততার কারণে মানুষ হলুদ পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি জানান, গত মাসে প্যারিসে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে বিষয়টি তুলে ধরেছেন এবং সেখানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
শিশুদের অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ও স্ক্রিনে আসক্তি এবং জাঙ্ক ফুড ও ফাস্টফুডের ক্ষতিকর প্রভাব থেকেও তাদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরিকল্পনা কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর এককভাবে দায়িত্ব চাপিয়ে এসডিজি অর্জন সম্ভব নয়। পানি, স্বরাষ্ট্র, সমাজকল্যাণ ও স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে নিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘অন্তত প্রতি দুই মাসে একবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বৈঠকে বসে যৌথভাবে তা বাস্তবায়ন করলেই কেবল কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।’
বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, মায়েদের সচেতনতা এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে শাকসবজি ও পুষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘বিচ্ছিন্নভাবে বিচ্ছিন্ন কোনো উদ্যোগ নয়, সব মন্ত্রণালয়ের যৌথ কর্মপদ্ধতি ও বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এসডিজি লক্ষ্য অর্জন করতে হবে।’
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং গেস্ট অব অনার হিসেবে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।