বিএসএসএএ এর মতে, ঘুম বারবার ব্যাহত হওয়ার কারণে পুনরুদ্ধারমূলক ধাপগুলোতে আমরা কম সময় কাটাই। ফলে বিছানায় দীর্ঘ সময় কাটানোর পরও ঘুম থেকে উঠলে আমাদের ক্লান্ত লাগে।
মানসিক চাপ ও মেজাজের ওপর প্রতিক্রিয়া
ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্ক দিনের যাবতীয় তথ্য প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ করে। এসময সঙ্গী নাক ডাকলে ঘন ঘন ঘুম ভাঙার কারণে এই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, যা আপনার মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। এমনকি আপনার মেজাজ খিটখিটে হয়ে যেতে পারে। কমে যেতে পারে চাপ সামলানোর সক্ষমতা। ২৯ বছর বয়সী মেগ ওয়ারেন তার সাবেক সঙ্গীর নাক ডাকার কারণে ঘন ঘন জেগে উঠতেন। তিনি বলেন,
সম্পর্কের ওপর বিরূপ প্রভাব
নাক ডাকার বিষয়টি আপনার সম্পর্কের ওপরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ডাক্তার ক্লেয়ার সাইমন বলেন, সঙ্গীর নাক ডাকার কারণে ঘুম ভেঙে মেজাজ খিটখিটে হয়, এতে করে এক পর্যায়ে ঝগড়া বাঁধে এবং দু’জন আলাদা ঘরে ঘুমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেটি সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা কমিয়ে দিতে পারে।
কখন চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত?
সাইমন ও জোহাল উভয়ই মনে করেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রথমে বোঝা জরুরি সঙ্গী কি শুধু নাক ডাকছেন, নাকি তার স্লিপ অ্যাপনিয়া রয়েছে।
স্লিপ অ্যাপনিয়া কী, লক্ষণ ও চিকিৎসা
স্লিপ অ্যাপনিয়া হলো ঘুমের সময় একজন মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাস বারবার বন্ধ হয়ে আবার শুরু হওয়া। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া, রাতে হাঁসফাঁস করা, ঘন ঘন ঘুম ভাঙা এবং সকালে মাথাব্যথা হওয়া।
সাইমন বলেন, অবস্থাভেদে নাক ডাকা ব্যক্তিকে কন্টিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেসার (সিপিএপি) মেশিন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। অথবা কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারেরও প্রয়োজন হতে পারে।
জীবনযাত্রায় পরিবর্তন ও অন্যান্য সমাধান
ওজন কমানো, ধূমপান বন্ধ করা, ঘুমানোর আগে অ্যালকোহল গ্রহণ কমানো, অথবা ঘুমানোর ভঙ্গি পরিবর্তনের (যেমন: চিৎ হয়ে শোয়া বদলে কাত হয়ে শোয়া) মাধ্যমে সাধারণ নাক ডাকা বন্ধ করা যেতে পারে বলে মনে করেন সাইমন।
তবে সঙ্গীকে একজন চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করার পরামর্শও দেওয়া যেতে পারে। তিনি তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারবেন বা বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠাতে পারবেন।
জোহাল বলেন, অনেক দম্পতি ‘অত্যন্ত দীর্ঘ সময়’ ধরে নাক ডাকার সমস্যা সহ্য করে যান। যা এক সময় তাদের সম্পর্ক ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।