বিগত শাসনামলে সংঘটিত প্রতিটি গুম ও অপহরণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা এবং আইনি বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দেশে গুমের পুনরাবৃত্তি স্থায়ীভাবে প্রতিরোধে সুদৃঢ় আইনি বলয় গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
রবিবার ৩০ আগস্ট ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে শনিবার দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের গুম হওয়া ব্যক্তি এবং তাঁদের স্বজনদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সংহতি জ্ঞাপন করেন। গুমের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন:
বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে অন্যতম অমানবিক ও ভয়াবহ রূপ হচ্ছে গুম বা বলপূর্বক অন্তর্ধান। এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মৌলিক মানবাধিকারের চরমতম লঙ্ঘন। পতিত স্বৈরাচারী সরকার দীর্ঘ দেড় দশক ধরে রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন ও নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে গুমের সংস্কৃতি চালু করেছিল এবং নিরপরাধ মানুষকে বছরের পর বছর আটকে রাখতে ‘আয়নাঘর’-এর মতো বর্বর গোপন বন্দিশালা গড়ে তুলেছিল। বর্তমান সরকার অতীতের প্রতিটি ঘটনার সুনির্দিষ্ট তদন্ত ও বিচারকার্য পরিচালনার পাশাপাশি দেশে গুমের অপসংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে কঠোর আইনি সুরক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে।
দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সময় সাত শতাধিক মানুষকে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে গুম করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পর কিছু ব্যক্তি বন্দিদশা থেকে ফিরে এলেও জননেতা এম. ইলিয়াস আলী ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলমসহ বহু নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান আজও মেলেনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রুখতে জাতীয় সংসদে ইতোমধ্যে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছর আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’ সামনে রেখে এই বর্বরোচিত মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান বিচারের জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংহতি জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।