স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে অবৈধ ক্লিনিকগুলো বন্ধে সারা দেশে অভিযান চালালেও গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। ফলে বাসা/মার্কেট ভাড়া নিয়ে রমরমা বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন এসব অবৈধ ক্লিনিকের মালিকরা।এসব ক্লিনিকের মালিক-কর্মচারীদের রোসানলে পড়ছেন রোগীরা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বৈধ ক্লিনিকের মালিক, ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন ক্লিনিক সূত্রে জানা যায়, কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মোট ৯টি ক্লিনিকের বৈধতা থাকলে। ওই সরকারী হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের সাথে আতাতের মাধ্যমে চলছে প্রায় ৩০/৩২টি অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
এগুলোর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাকের ডগায় মাত্র ৪০গজ সামনে ডিজিল্যাব ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কালিয়াকৈর বাইপাস সাহেব বাজার এলাকায় দেওয়াল ডিজিটাল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সিকদার মেডিকেল সেন্টার, চান্দরা ত্রিমোড় এলাকায় স্কয়ার হাসপাতাল, পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় জীবন জেনারেল হসপিটাল, মৌচাক পপুলার ও সুফিয়া হাসপাতাল, ফুলবাড়িয়া বাজারে উকামাতু মেডিকেল সেন্টার ও মেডিট্রাস্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এছাড়াও ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে আরো অবৈধ ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ডেন্টাল ক্লিনিক। এসব ক্লিনিকে রক্ত, কফ, মলমূত্র, এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রামসহ নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন অদক্ষ কর্মীরা। এ কারণে প্রতিনিয়ত নানাভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। কখনো কখনো ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আবার কখনো কখনো নার্স দিয়ে মহিলাদের ডেলিভারির অপারেশন করানোর অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও সরকারি হাসপাতালের অনেক ডাক্তার অফিস ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ক্লিনিক গুলোতে গিয়ে রোগী দেখছেন এবং অপারেশনও করছেন। এ সুযোগে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে গলাকাটা অর্থ আদায় করে নিচ্ছেন এসব অবৈধ ক্লিনিকগুলোর মালিকরা। সারা দেশে অভিযান চালালেও অজ্ঞাত কারণে কালিয়াকৈরে অবৈধ ক্লিনিক বন্ধে প্রশাসনের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা:মো.লুৎফর রহমান আজাদ জানান, অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছি আশাকরি অতিদূত অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার আহম্মেদ জানান, যে কয়টি অবৈধ ক্লিনিক ও ডাযাগনস্টিক সেন্টার রয়েছে, সে গুলো খুব তাড়াতাড়ি অভিযান পরিচালনা করা হবে। অবৈধ ক্লিনিক পরিচালনা করার কোন সুযোগ নেই।